চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

পারকি সৈকতে থামছে না ‘কলগার্ল-বাণিজ্য’

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২০ ২৩:৫৯:১২ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২০ ২৩:৫৯:১২

জাহেদুল হক,আনোয়ারা :
পরনে বোরখা। মুখে নেকাব। কপাল আর চোখ দুটি দেখা যাচ্ছে। ¯েœা-পাউডার মাখা ধবধবে সাদা। দেখতে ভদ্র-মার্জিত পর্দানশীল কোনো নারী। পরক্ষণে বুঝা গেল আসল ঘটনা! বোরখা তাদের পর্দা নয়, আড়ালে থাকার কৌশল মাত্র। চলাফেরা এলোমেলো। দিকবেদিক ছুটাছুটি করছে। তবে লক্ষ্যে তারা স্থির। কোনো পর্যটকের চোখে চোখ পড়লেই ইশারায় বুঝিয়ে দেয়,টাকার বিনিময়ে সময় কাটাতে তারা প্রস্তুত। নিত্যদিনের এমনই চিত্র আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রভাবশালী মহলের মদদে চলছে ‘কলগার্ল-বাণিজ্য’। এ কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কুলষিত হচ্ছে দিনদিন। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও থামছে না এসব অসামাজিক কার্যকলাপ।
সর্বশেষ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সৈকতের কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে খদ্দেরসহ ৬ জনকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। এর আগে গত ১২ এপ্রিল সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়। বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ফরিদ উদ্দিন জানান,আটককৃতদের শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সৈকতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযানের মধ্যেও এ অনৈতিক বাণিজ্য থামছে না।
পারকি সৈকত এলাকায় অর্ধশতাধিক খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। প্রতিটি দোকানের ভেতরে ছোট ছোট কক্ষ রাখা হয়েছে। একেকটি কক্ষ যেন মিনি পতিতালয়। সেখানে প্রকাশ্যে চলছে দেহ ব্যবসা। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতায় এলাকার যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে। বিপদগামী আর নেশায় আক্রান্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। এসবে জড়িতরা কোনো আইন বা সামাজিক দায়বদ্ধতার তোয়াক্কা করে না। আর এ অপকর্মে তাদের মদদ দিচ্ছে সমাজের কিছু প্রভাবশালী মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়,সৈকত এলাকার প্রায় দোকানদার এই অপকর্মের সাথে জড়িত। তাদের অনেকে সরাসরি আবার কেউ কেউ কর্মচারী দিয়ে এ ব্যবসা চালায়। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। শুধু তাই নয়,সৈকতে বেড়াতে আসা অনেক প্রেমিক যুগল তাদের হাতে হেনস্তাও হয়েছে। এমন অনেক ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের টনক নড়ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান কর্মচারী বলেন,বিভিন্ন জায়গা থেকে পতিতারা এখানে আসে। তারা খদ্দের নিয়ে আসে তারপর কাজ সেরে চলে যায়। তাদের ঘন্টায় পাঁচশ টাকা ভাড়ায় ঘর দেওয়া হয়। আর মেয়েসহ ঠিক করে দিলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে পারকি সমুদ্রসৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.জামাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জানে আলম বলেন,সৈকতে গড়ে উঠা বেশিরভাগ দোকান অবৈধ। তারা সেখানে ব্যবসার আড়ালে পতিতাবৃত্তি শুরু করেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ জানান,সৈকতে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *