প্রদীপ শীল
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২০ ২৩:৪৭:৪৩ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২০ ২৩:৪৭:৪৩
প্রদীপ শীল, রাউজান প্রতিনিধি: মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ’র উগ্র সমর্থকদের হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ার শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাউজানের সকল মুক্তিযোদ্ধা। শনিবার (২০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাউজান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল’র কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী। তিনি বলেন সম্প্রতি মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির কিছু যুবকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ সন্ত্রাসী ও উগ্র কার্যকলাপের কারণে ইসলামের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। নিজেদের মতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাউজান উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগের মোজাম্মেল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোর সময় প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ারকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই তরিক্বতের প্রতিষ্ঠাতার বাড়ি এবং মাদরাসায় রাজাকারদের আস্তানা ছিল। ঐসময়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে নিয়ে সেখানে নির্যাতন করা হতো। এক কথায় কাগতিয়া মাদরাসা টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার হতো। মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ কমান্ডার শহীদ নাজিম উদ্দিন খানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ২৭ সেপ্টম্বর ১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা কাগতিয়া মাদরাসার রাজাকার ক্যাম্প আক্রমন করেন। তাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে আমাদের সহযোদ্ধা রাউজান থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুছা খান শহীদ হন।
বর্তমানে ঐ কাগতিয়া মাদরাসায় মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। নিজেদের আখের গোছানোর অভিপ্রায়ে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী কমান্ডের মাদ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে প্রতিনিয়ত জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। যা রাউজানের মুক্তিযোদ্ধাসহ শান্তিপ্রিয় মানুষ সমর্থন করেন না। মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ার ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগের নেতা মোজাম্মেল হকের উপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তির জোড় দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বেআইনী কর্মকান্ডসমূহ তদন্তপূর্বক উক্ত সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
অন্যথায় রাউজানের মুক্তিযোদ্ধারা রাউজানবাসীদেরসাথে নিয়ে আগামীতে বৃহত্তর আন্তোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে। জেলা ইউনিট কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ারকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় জড়িত ও ইন্দনদাতাদের গ্রেফতার করা না হলে আগামী মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন কাগতিয়া মাদরাসার যেখানে মুক্তিযোদ্ধা মুছা খান শহীদ হয়েছিলেন সেখানে তাঁর স্মরণে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হোক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, সাবেক জেলা কমান্ডার তোফায়েল আহম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন, সুনিল চক্রবর্তীসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।