চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

নীরব জসীম ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

লোহাগাড়ায় কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেনীর ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৩ ০২:১৫:৪২ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৩ ০২:১৫:৪২

লোহাগাড়া অফিস : সারা দেশে যখন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি ধর্ষণের শিকার ও পরে পুড়িয়ে মারার প্রতিবাদে উত্তাল দেশ ঠিক সে সময়ে লোহাগাড়ায় নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে হাত- পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ আসে কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে। গত ১২ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে বাড়িতে মা না থাকার সুবাদে নবম শ্রেীর এক ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে কোচিং সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে। পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিক সাইফুল ইসলাম। সে উত্তর আমিরাবাদ পূর্ব মুহুরি পাড়ার আব্দুস সোবহানের ছেলে বলে জানা যায়। তার বয়স ২৭ বছর।

এ ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল লোহাগাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন স্কুল ছাত্রীর মা। মামলা সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম উত্তর আমিরাবাদ এলাকায় সৃজনশীল নামে একটি কোচিং সেন্টার খুলেন। ভিকটিমসহ একই পরিবারের ৪ সহোদর সেই কোচিং সেন্টারে পড়তেন। সে সুবাধে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের সাথে ভিকটিমের পরিবারের সাথে যুগসূত্র তৈরি হয়। ওই ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিন আমি বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাই। পরদিন ১২ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সাইফুল আমাকে ফোন করে আমি কোথায় আছি তা জানতে চান। আমি বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আছি বলে জানাই। এরপর তিনি আমাদের ঘরে এসে আমার মেয়েকে একা পেয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে গুরুতর আহত করেন। এ সময় মেয়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সাইফুল পালিয়ে যান। পরে মেয়েকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলে গত ১৮ এপ্রিল মেয়েকে নিয়ে বাড়ি আসি।

এরই মধ্যে ১৫ এপ্রিল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের(ওসিসি) সহযোগীতায় লোহাগাড়া থানায় মামলা করি। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাওকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে লোহাগাড়া থানার এসআই বিকাশ রুদ্র বলেন, আসামীর মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকাতে টেকনিক এপ্লাই করেও তাকে ধরতে পারছি না। তবে তাকে ধরার চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যরাও পালিয়ে গেছে। অভিযুক্ত সাইফুল যেন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য বহির্গমনে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই অভিয্ক্তু সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *