চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

শফকত হোসাইন চাটগামী বাঁশখালী প্রতিনিধি

বাঁশখালীতে লটারীর নামে চলছে প্রকাশ্যে জোয়ার আসর!

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৫ ১১:০৭:৩২ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৫ ১১:০৭:৩২

শফকত হোসাইন চাটগামী, বাঁশখালী :
বাঁশখালীতে চলছে লটারীর নামে প্রকাশ্যে জোয়ার আসর। প্রতিদিন বাঁশখালীর বিভিন্ন আনাচে কানাচে বিক্রি হচ্ছে এই অবৈধ লটারী। ২০ টাকায় মোটর সাইকেল দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সঙ্গবদ্ধচক্র। অপরদিকে উপজেলার চাম্বল পরিষদ কার্যালয়ের মাঠে চলছে কর্ণফুলী চক্ষু হাসপাতাল আয়োজিত স্বাধীনতা ও বৈশাখী মেলা। গত ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ মেলার অন্যতম আকর্ষন হলো ‘দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র’।

প্রতিদিনের ড্রয়ের ঘোষনা করে দক্ষিন চট্রগ্রামের মইজ্জার টেক শুরু করে বাশঁখালীর সর্বত্র ও দক্ষিনের পেকুয়া পর্যন্ত শতাধিক স্পর্টে সিএন্ডজি, রিক্স্রা অথবা বিভিন্ন বাজারের বসে এ লটারি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা হারে। ‘দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র’ এ লটারির আয়োজন করলে ও তাদের রয়েছে আবার কয়েকটি শাখা। দি সোনালী লাকী কুপন, দি সোনালী র‌্যাফেল ড্র, দি নিঝুম লাকী কুপন, দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র, দি সুমন লাকী কুপন, দি সুমন র‌্যাফেল ড্র, নামে প্রতিদিন বাশঁখালীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে সাধারন জনগন অভিযোগ করলে ও কোন অবস্থায় এ লটারি বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।

অথচ সাধারন জনগন বহুমুখি প্রচারনার ফাদেঁ পড়ে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিদিন শত শত লটারি সংগ্রহ করে যাচ্ছে। লটারি বিজয়ীদের জন্য লোভনীয় অপার থাকলে ও এখন ও পর্যন্ত এ লটারি থেকে উল্লেখযোগ্য কোন পুরস্কার কেউ পেয়েছে তার কোন নজির নেই।
সরজমিনে দেখা যায়, বাশঁখালী উপজেলা ও পৌরসদর জলদী সহ বৈলছড়ি, কালীপুর, গুনাগুরী, সাধনপুর, পুকুরিয়া, শীলকুপ, সরল, শেখেরখীল, নাপোড়া ও পুইছড়িসহ অদিকাংশ এলাকায় মাইক সহকারে সিএন্ডজি ও রিক্সা করে এসব লটারি বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। সাধারন জনগন লোভনীয় পুরস্কারের ঘোষনা থাকায় এসব লটারি দিনের পর দিন কিনে চললে এখন ও পর্যন্ত কোন পুরস্কারের দেখা মিলেনি বলে জানান জলদীর আনসুর আলী। একই কথা বললেন চাম্বলের জামাল উদ্দিন ও নাপোড়ার আবুল কালাম। লটারির ব্যাপারে জানতে চাইলে।

‘দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র’ এর পরিচালক এম.এ রাজু খান বলেন আমাদের এ লটারি কার্যক্রম আগামী রোজার আগের দিন পর্যন্ত চলবে। তিনি চট্রগ্রামের এর মইজ্জার টেক শুরু করে বাশঁখালীর সর্বত্র ও দক্ষিনের পেকুয়া পর্যন্ত শতাধিক স্পর্টে সিএন্ডজি, রিক্সা অথবা বিভিন্ন বাজারের বসে শতাধিক স্পর্টে লটারি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান। তবে তিনি বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানের কথা ও জানান।
বাশঁখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, এ লটারি বিক্রির খবর পেয়ে আমি মোবাইল কোটের মাধ্যমে জব্দ সহ জরিমানা করেছি। তারা আর করবেনা বলে আমাকে মুছলেকা দিয়েছে। আমি ওসি সাহেবকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

এদিকে ‘দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র’ কবলে পড়েছে সাধারন মানুষের পাশাপাশি স্কুল কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীরা। তারা প্রতিদিন একটা না একটা লটারি সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিবারের পিতামাতাসহ অন্যদের উপর টাকার জন্য বাড়তি আবদার করে যাচ্ছে বলে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *