চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

গণধর্ষিতা প্রতিবন্ধী যুবতীর চিকিৎসায় পটিয়া থানার ওসির মহানুভবতা!

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৭ ০১:১২:২১ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৭ ০১:১২:২১

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : গণধর্ষণের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী গর্ভবতী যুবতীর চিকিৎসার জন্য মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে এগিয়ে এলেন পটিয়া থানার নবাগত ওসি বোরহান উদ্দিন। ফলে মৃত্যুর হাত থেকেই এ যুবতী রক্ষা পাননি, বর্তমানে চমেক হাসপাতালে নবাজাতকের জন্ম দানের অপেক্ষার প্রহর গুনছে। এ নিয়ে অসহায় এ যুবতীর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলার তীর ছুড়লেও তিনি রোগীটির অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে চমেকে পাঠানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না বলে তথ্য দিয়ে বলেন, পটিয়া থানার ওসি এক্ষেত্রে এগিয়ে এসে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায়। বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী এক যুবতী গত ১০-১২দিন ধরে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ঘুরাফেরা করে আসছিল। মানসিক প্রতিবন্ধী এ যুবতী নিজের নাম সুমী, বাড়ি কুমিল্লা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে নি। যুবতীটি গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফুটপাতের উপর প্রসব বেদনায় কাতরানোর সময় খাজা ফার্মেসীর মালিক গাজী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। তিনি পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড এলাকার অধিবাসী ভ্যানগাড়ি চালক জসিমকে নিয়ে যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির জন্য অনুরোধ করেন এবং নিজ বাসা থেকে তার স্ত্রীর জামা কাপড় এনে পরিধানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভর্তি না করিয়ে আবাসিক অফিসারের সাথে তাদেরকে যোগাযোগ করতে বললে তারা ফোনে তাকে না পেয়ে বিষয়টি পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে অবহিত করেন।

তারা পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিনকে ঘটনাটি খুলে বললে ওসি নিজে হাসপাতালে আসেন এবং মেয়েটিকে গাইনী বিভাগে ভর্তির অনুরোধ করেন। এ সময় ওসিকে আবাসিক অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বললে তিনি জানান আমি ফোনে আবাসিক অফিসারকে পাইনি এবং হাসপাতালেও তিনি দায়িত্বরত ছিলেন না। ফলে আমি রাত ১১টায় একটি নোহা মাইক্রো বাস ভাড়া করে মেয়েটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। খাজা ফার্মেসীর মালিক গাজী আনোয়ার হোসেন জানান, মেয়েটি মৃত্যু ও প্রসব যন্ত্রনায় চটপট করছিল। পটিয়া থানার ওসির মানবিকতার কারণে সে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। চমেক হাসপাতালে ভর্তির পর কর্তৃপক্ষ তাকে গাইনী বিভাগের ওএসসিসিতে স্থানান্তর করেছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসা চলছে সে সুস্থ রয়েছে। ২/১দিনের মধ্যে তার বাচ্চা প্রসব হতে পারে। পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, মানুষ মানুষের জন্য। অভিভাবকহীন মানসিক প্রতিবন্ধী উক্ত যুবতীর মৃত্যু যন্ত্রনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে দৌড়ে যায় এবং তাকে হাসপাতালে গাইনী বিভাগে ভর্তির জন্য মেডিকেল প্রধানকে বললেও তিনি হাসপাতালের বাইরে থাকায় আরএমও সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে বলন। কিন্তু আরএমও’কে আমি হাসপাতালে পাইনি এবং মোবাইল ফোনেও খুঁজে পায়নি।

এমনকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে এম্বুলেন্স রয়েছে তার চালককেও সে সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে চমেকে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। আমার মনে হয় অবলা এ মেয়েকে অভিভাবকহীন পেয়ে খারাপ চরিত্রের লোকেরা গর্ণধর্ষণ চালিয়ে অন্ত:স্বত্বা করেছে। বর্তমানে মেয়েটি সুস্থ রয়েছে। বাচ্চা হলে তাকে সমাজ সেবা বিভাগের মাধ্যমে শিশু আশ্রম কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: আবু ইউছুফ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ জানান, আমি সেদিন হাসপাতালের বাইরে ছিলাম। তাই আর আরএমও’র সাথে যোগাযোগ করতে বলেছি। তাছাড়া জরুরী বিভাগের ডাক্তাররা মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে গিয়ে তার শরীর ফুলা হওয়ায় ঝুঁকি নিতে চায়নি। বিশেষ করে এ সমস্ত রোগীর চিকিৎসা চমেকে এবেলএবল রয়েছে। তাই তাকে সেখানে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। আর ওসি সাহেব নিজেই এ ব্যবস্থাটুকু করে মহানুভবতার পরিচয় দেওয়ায় আমি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *