চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

বিদেশি বোতলে ভরা রাসায়নিকে তৈরি মদ বিক্রি হচ্ছে পারকি সৈকতের সব দোকানে

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৭ ০১:৩২:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৭ ০১:৩২:০৭

জাহেদুল হক,আনোয়ারা :
চকচকে বিদেশি বোতল কিন্তু ভেতরে এসিডে তৈরি মদ। দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারায় পারকি সমুদ্রসৈকতে এসব মদ বিক্রি করছে দোকানিরা। আর এসব মদ দোকানিদের সরবরাহ করছে সোহেল,ছালাম,সেলিমসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র।প্রতিদিন বিষাক্ত এই মদ পান করে মৃত্যুঝুঁকিতে ধুঁকছে যুবসমাজ।
স্থানীয় সূত্র জানায়,দুই বছর আগে এসব ভেজাল মদ তৈরি করতে গিয়ে এসিড বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যায় উপজেলার দুধকুমড়া (পারকি) গ্রামের আলমগীর নামে এক ব্যক্তি। বছর খানেক আগে বিষাক্ত এসব মদ পান করে মারা যায় কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা গ্রামের আবদুচ ছাত্তারসহ জাহাজের দুই নাবিক। সম্প্রতি সৈকতে বেড়াতে আসা পটিয়ার দুই বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়েন। এভাবে প্রায় প্রতিদিন অহরহ ঘটনা ঘটলেও অদৃশ্য কারণে নিরব ভুমিকায় প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,নগরীর বিভিন্ন বার থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল কেনে সেগুলো ধুয়েমুছে পরিস্কার করা হয়। বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভদকা,স্কচ,হুইস্কির মোড়ক তৈরি করে তা পুনরায় বোতলে লাগিয়ে দেয়। এরপর বোতলের ভেতরে এসিড (মিথানল) দিয়ে বানানো নকল মদ ভর্তি করে ডাইসের মাধ্যমে ছিপ লাগিয়ে বোতলজাত করা হয়। পরে ভেজাল এসব মদ পাইকারি মূল্যে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় সৈকতের দোকানিরা কিনে নেয়। তারা এসব মদ সৈকতে আসা পর্যটকদের কাছে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈকতের এক দোকান কর্মচারী বলেন,কড়াইতে চিনি সিদ্ধ করলে এগুলো লাল বর্ণের হয়। এসব চিনি এসিডে মেশানোর পর লালচে হয়ে যায়। পরে এসব মদ বিদেশি পুরনো বোতলে নিয়ে বিক্রি করা হয়। এসব মদে নেশা বেশি হওয়ায় বেচাবিক্রিও ভাল হয়। তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিথানল এলকোহল পানে ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রাখাল চন্দ্র বড়–য়া জানান,শিল্প কারখানার জন্য আমদানিকৃত মিথানল এলকোহল মিশ্রিত ইথানলকে বলা হয় মিথাইলেটেড স্পিরিট। অধিক পরিমাণে মিথানলের উপস্থিতি ফরমিক এসিড বা ফরমেট লবণের মেটাবোলাইজ ঘটায় যা ¯œায়ু তন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে অন্ধত্ব,পঙ্গুত্ব এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। দেশে প্রতিবছর অনেক মানুষ এই বিষাক্ত স্পিরিট পানের কারণে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *