চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় সনাকের নুসরাত হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-৩০ ২৩:১৪:৪৬ || আপডেট: ২০১৯-০৪-৩০ ২৩:১৪:৪৬

 আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : নুসরাত হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ভয় বা করুণার উর্দ্ধে উঠে সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), পটিয়া। একই সাথে বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরণের সহিংসতা প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের ন্যয়বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি অপরাধের পরিবারকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানায় উক্ত নাগরিক সংগঠনটি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের দায়িত্ব পালনে কথিত ঘাটতি ও যোগসাজশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আহ্বান জানানো হয়। আজ (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটায় পটিয়া আদালতের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানায় সনাক, পটিয়া শাখা।

মানববন্ধনে টিআইবি’র ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্য আয়েশা আক্তার সোমা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারিরা বলেন, “যারা নুসরাতকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যা করেছে শুধু তারাই এর জন্য দায়ী নয়। এর সাথে পরোক্ষভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশ, রাজনৈতিক ও অন্যান্য স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গসহ আরো অনেকেই জড়িত; যা একধরণের সিন্ডিকেট। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করি যে, যেখানেই এই ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয় সেখানেই এ ধরণের সিন্ডিকেটের উৎপত্তি হয় এবং সেই সিন্ডিকেটের হাত ধরেই এ ধরণের অপরাধের ন্যায় বিচার প্রতিহত হয়। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটছে।” দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাংশ মানসিক বৈকল্যে ভুগছে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, “তাদের অনেকেই দুর্নীতিগ্রস্থ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবান্বিত এবং ব্যাপকভাবে অনিয়মের সাথে জড়িত; তারা অপরাধীর পাশে দাঁড়ায়, অপরাধীকে সুরক্ষা দেয় আর যারা অপরাধের শিকার তাদের শুধু অধিকারই হরণ হয় না, নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে হয়।

এভাবে একটা স্বাধীন দেশ চলতে পারে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি, যখন অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে- যখন মানুষ জানবে, অপরাধী জানবে, যে অপরাধ করলে, অপরাধীর সাথে যোগসাজশ থাকলে, অপরাধের সুরক্ষা দিলে শাস্তি পেতে হয়, তখনই কিন্তু আমাদের আর পথে নামতে হবে না। বাস্তবে আইনের শাসন আছে এমন একটা দেশই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন।” নুসরাতের হত্যাকান্ড সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, “দ্রুত বিচার আদালতে নুসরাত হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে যে তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তারা বিচারহীনতাকে প্রশ্রয় দেয় না। নুসরাত হত্যার ন্যায়বিচার না হলে আইনের শাসনের প্রতি দেশবাসীর কোন আস্থা থাকবে না।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সনাক পটিয়ার সাবেক সভাপতি অ্যাড. কবিশেখর নাথ, সহ-সভাপতি নিত্যময় চৌধুরী ও শীলা দাশ, সনাক সদস্য আবদুর রাজ্জাক, মো: সোলায়মান ও অ্যাড. তানজিনা জাহান, স্বজন সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম, স্বজন সদস্য নাছিমা আকতার, ইয়েস দলনেতা দীপ্ত বড়ুয়া, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো: জসিম উদ্দিন, এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও সনাক- টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় পটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়ুথ এনগেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *