চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

অনৈতিক কর্মকান্ড ফাঁসের দেড় ঘন্টা পর ফাঁসিতে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০৪ ২১:৫১:৪৭ || আপডেট: ২০১৯-০৫-০৪ ২১:৫১:৪৭

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :

দু’জন নিষ্পাপ শিশু ঘরের দরজায় দাড়িয়ে খেলা করছে। মা কোথায় জিজ্ঞেস করলে বলে ঘুমাচ্ছে, ঘুম থেকে উঠে আবার আসবে। কিন্তু এই অবুঝ শিশু দু’টো জানে না, তাদের মা আর কখনো ফিরে আসবে না। অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে অকালেই আত্মহত্যা করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে দুই শিশুর মা জান্নাতুল ফেরদৌস।

শুক্রবার (৩ মে) রাত ১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিজের দুই শিশুকে ঘুমে রেখেই পরকীয়া প্রেমিক শ্বশুর বাড়ি এলাকার প্রতিবেশী ভাসুর পুত্র মো. মিজানের (২৫) সাথে অনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছিল প্রবাসীর স্ত্রী। কিন্তু বাচ্চারা ঘুমালেও, ঘুম ছিল না শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তারা বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলে। ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টা পর অনৈতিক প্রেম ফাঁস হওয়ায় জান্নাতুল ফেরদৌস (২৭) নামের এই প্রবাসীর স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের সৈয়দুল হক চেয়ারম্যান বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত প্রেমিক মিজান পলাতক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালে উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের গোয়ালপুরা সিংহঘোনা এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে বিয়ে হয় চন্দ্রঘোনা সৈয়দুল হক চেয়ারম্যান বাড়ির মরহুম গফুর আলমের পুত্র প্রবাসী মোহাম্মদ ঈসার। তাদের সংসারে মুসতাকিম আহম্মদ ঈশান (৬) ও ঈশিতা ইছা মীম (৪) নামের এক পুত্র ও কন্যা শিশু সন্তান রয়েছে।

স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পরে প্রতিবেশী ভাসুর পুত্র চন্দ্রঘোনা তৈয়বিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হারুনের রশিদের ছেলে মো. মিজান। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ার সুযোগে তারা প্রায়ই রাতে দেখা করতো। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে তারা প্রেম চালিয়ে গেলেও শুক্রবার (৩ মে) রাত ১টার দিকে দেখা করতে গেলে দ্’ুজনকে অনৈতিক অবস্থায় একসাথে দেখে ফেলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এসময় প্রেমিক মিজান তার পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয় এবং কথা বলার এক পর্যায়ে সবাইকে ধাক্কা মেরে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি সকালে সমাধান করার কথা বলে সবাই ঘুমোতে চলে যায়।

এই ঘটনার দেড় ঘন্টা পর গৃহবধূর রুম থেকে গোঙ্গানির শব্দ এলে দরজা ভেঙ্গে দেখে সে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের সিলিংয়ের সাথে ঝুলে আছে। পরে তাকে বাঁচাতে ওড়না কেটে নিচে নামিয়ে দেখে সে মারা গেছে। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত করতে মর্গে পাঠানো হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *