চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

কাইছার হামিদ

লোহাগাড়ার পুটিবিলায় বনবিভাগের জায়গা দখলের চেষ্টা: চাঁদা দাবী করছে উপকারভোগী

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১০ ২১:১৮:৪৪ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১০ ২১:১৮:৪৪

লোহাগাড়া অফিস:

লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা পহরচান্দা এলাকায় বনবিভাগের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। খবর নিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার প্রভাবশালীমহল বনবিভাগের জায়গা জোর পূর্বক বিভিন্ন অজুহাতে দখল করে নেয় ও কেটে নিয়ে যায় বন গাছ । স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন বনবিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিনিয়ত এমন কাজ করে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন পদুয়া রেঞ্জের টংকাবর্তী বিট এলাকার পহরচান্দায় ২০০৫-২০০৬ সনে ২০ হেক্টর সামজিক বনায়ন করে বনবিভাগ। স্থানীয় লোকজন সামাজিক বনায়নে উপকারভোগী হিসেবে যুক্ত হয়।

সামাজিক বনায়নটি নিলাম দেয় বনবিভাগ। দরপত্র নং ২২.০১.০০০.৭৩১.১৭.০৪.১৮.৪৫৭ এর মূলে   মেসার্স কে বি এন ট্রেডিং নিলাম ক্রয় করে। পদুয়া রেঞ্জার সরওয়ার জাহানের নির্দেশে টংকাবর্তী বিট কর্মকর্তা মাহবুব ফেরদৌস তার অধীনস্থদের নিয়ে মেসার্স কে বি এন ট্রেডিং এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ অাইয়ুবকে বাগান বুঝিয়ে দিতে গেলে স্থানীয় কতিপয় বনখেকো বাঁধা দেয়। নারী নির্যাতন মামলার ভীতি দেখিয়ে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে চাঁদা দাবী করে। এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা মাহবুব ফেরদৌস বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।  ডায়েরীতে নয় জনের নাম উল্লেখ করা হয় বলে জানা যায়। অভিযুক্তরা হলেন, পূর্ব কলাউজানের মৃত রাজ বিহারী বড়ুয়ার পুত্র সুনীল বড়ুয়া ওরপে টিপু বড়ুয়া, একই এলাকার মৃত রত্ন সেন বড়ুয়ার পুত্র সমীল বড়ুয়া, পহরচান্দা মৃত ইব্রাহিমের পুত্র মমতাজুল ইসলাম, একই এলাকার ঠান্ডা মিয়ার পুত্র বাঁচা মিয়া, বাঁচা মিয়ার পুত্র শামসুল ইসলাম, মৃত এয়াকুবের পুত্র মীর আহমদ, মৃত মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পুত্র আব্দুল মান্নান, মৃত নজির আহমদের পুত্র শামসুল আলমসহ অজ্ঞাত ১৮/২০ জন।

বিট কর্মকর্তা মাহবুব ফেরদৌস বলেন, যারা বাধা দেন তাদের অনেকেই আবার সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। বহিরাগত সন্ত্রাস ভাড়া করে বাধা দিচ্ছেন। সাধারণ ডায়েরী করার পরও নানাভাবে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। বাগান কাটার শ্রমিক তপন প্রতিবেদককে জানান, দিদার নামের এক যুবক একাধীকবার একেক সময়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভয়-ভীতি দেখায়। যার কারণে কাজ করতে শ্রমিকরা ভয় পাচ্ছে। তাছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন লোকজন এসে গাছ কাটতে নিষেধ করছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, ওই সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের জায়গা দখলের পায়তারা করছে। নিলামে বাগান ক্রেতা মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ভ্যাটসহ ২৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮ শত ২০ টাকা সরকারের খোশাগারে জমা দিয়েছি। এমন মূহুার্তে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। চাঁদা দিয়ে বাগান কাটা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে শ্রমিকরা কাজে আসছে না। আমি সংশ্লিস্টদের সহযোগিতা কামনা করছি। এদিকে অভিযুক্তদের না পাওয়া তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।।।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *