জাহেদুল হক
আনোয়ারা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৬ ০০:৩২:২২ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১৬ ০০:৩২:২২
জাহেদুল হক,আনোয়ারা :
আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন বিপণি কেন্দ্রের দর্জি দোকানগুলো এখন খটখট শব্দে মুখর। দারুণ ব্যস্ততায় দর্জিদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে,ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের পোশাক সরবরাহের চাপ। কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে ২৫ রমজান পর্যন্ত নেয়া হবে পোশাক তৈরির অর্ডার।
গত মঙ্গলবার উপজেলার চাতরী চৌমুহনী,বটতলী রুস্তমহাট,জুঁইদন্ডী চৌমুহনী,বন্দর কমিউনিটি সেন্টার ও উপজেলা সদর ঘুরে পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে ব্যস্ততা চোখে পড়ে। রোজার প্রথম সপ্তাহেই এই ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে তৈরি পোশাক কেনায় অভ্যস্ত। এর পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসবে-পার্বনে দর্জির কাছে ইচ্ছেমতো পোশাক বানানোর রীতি-রেওয়াজ বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। তাই দর্জির দোকানে ভিড় করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষই। তবে বরাবরের মতো এবারও তরুণীদের সংখ্যাই বেশি।
দেখা গেছে,শার্ট-প্যান্টের চেয়ে ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবীতে। মেয়েদের পছন্দ সালায়ার-কামিজ আর লং ফ্রক। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ,ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি মজুরি নিচ্ছেন দর্জিরা। অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকের কাজের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। পোশাক তৈরির কারিগররা জানান, রোজা শুরুর আগে থেকে ঈদের পোশাক তৈরির ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। আর ঈদকে সামনে রেখে দর্জি দোকানে বাড়তি লোক নেয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
চাতরী চৌমুহনী বাজারে ছেলেমেয়ে নিয়ে থান কাপড় কিনতে আসা ফাহমিদা শামীম নামে এক ক্রেতা জানান, নিজের মতো করে ডিজাইনটা করা যায়, সেই সাথে বড় বা ছোট হয় না,একদম মাপ অনুযায়ী হয়। তাই কাপড় কিনে পোশাক বানাতে একটু আগেই মার্কেটে আসা। কয়দিন পর দর্জির দোকানে অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
সামশুল ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, রেডিমেড পাঞ্জাবী কিনে আবার ছোট করতে হয়,এতে করে অনেক সময়ই পোশাকটার মান নষ্ট হয়ে যায়। এবার কাপড় কিনে দর্জির কাছে বানিয়ে নিতে এসেছি।
রুস্তমহাটের মান্নান ক্লথ স্টোরের স্বত্তাধিকারী আবদুল মান্নান জানান,এ বছর ক্রেতারা থান কাপড় কিনে বিভিন্ন দর্জির দোকানে তাদের পছন্দ মাফিক পোশাক বানাচ্ছেন।
জুঁইদন্ডী চৌমুহনীর সৌদিয়া টেইলার্সের স্বত্তাধিকারী মোরশেদ আলম বলেন,রমজানের আগে থেকেই কাজের চাপ বেড়ে গেছে। আর ক‘দিন পর অর্ডার নিতে পারব না।
হাজী ইমাম শপিং সেন্টারের আল-সাদিয়া টেইলার্সের দর্জি সাকিব রেজা বলেন,ইন্টারনেটে বিভিন্ন ডিজাইন দেখে, তারপর পছন্দের রংয়ের কাপড় কিনে ওই ডিজাইন নিয়েই আমাদের কাছে আসে ক্রেতারা। আমরা ওই ডিজাইন মতে পোশাক তৈরি করে দেই। এতে করে রেডিমেড পোশাকের চেয়ে অনেকটা কম খরচেই পছন্দের পোশাকটি বানাতে পাচ্ছেন তারা। আর তাই আমাদের কাজও দিন দিন বাড়ছে।