চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে মৌসুমী ফল কাঁঠালের জমজমাট বিককিনি

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৮ ২২:০৭:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১৮ ২২:২৪:৫৭

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই

মিরসরাইয়ের বাজারে আসছে মৌসুমী ফল কাঁঠাল।  উপজলোর সর্বত্রই কম-বেশি এখন কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের প্রথমে কাঁচা অবস্থায় এবং গ্রীষ্ম ও বর্ষায় পাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।  বাজার জুড়ে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।বাজারে নতুন ফল কিনতে পেরে ক্রেতারা যেমন খুশি ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে তেমনি বিক্রেতারাও খুশি।

জানা গেছে, মিরসরাইয়ের সর্ব উত্তরে অবস্থিত করেরহাট বাজারে সপ্তাহে দুইদিন রবি ও বুধবার বসে আম কাঠালের বড় হাট। প্রতি হাটবারে এবাজারে ৫লক্ষাধিক টাকার ফলের কেনাবেচা হয়। ফেনী, নোয়াখালিসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসে নানান মৌসুমী ফল ক্রয়ের উদ্দেশ্যে। সড়কপথে যোগাযোগ ও তুলনামূলক কম দামে পাইকারি ক্রয় বিক্রয় হয় বলে করেরহাটে মৌসুমি ফলের হাট জমজমাট থাকে। আবার বড়দারোগারহাট ও মিরসরাই সীতাকুন্ড মধ্যবর্তি হাট হলে ও বেশ জমে কাঁচা আম, কাঁঠাল সহ মৌসুমী ফলের হাট।

 

উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বড় একটি অংশ উঁচুুনিচু টিলা আর পাহাড়বেষ্টিত বলে এসব ফল সহজে চাষাবাদ হয় এ এলাকায়। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন নানা জাতের ফল চাষাবাদ, বাজারজাত ও বিক্রয়ের অন্যতম একটি স্থান হলো মিরসরাই উপজেলার করেরহাট বাজার। একসময় সীমিত আকারে করেরহাট ও এর আশপাশের এলাকায় কাঁঠাল ছাড়াও আম লিচু, আনারস, জাম্বুরাসহ নানা জাতের মৌসুমি ফল উৎপাদন করা হতো।

 

এখন এসব এলাকার সর্বত্রই আর্থিক উপার্জনের কথা ভেবেই বসতবাড়ির আঙিনা, খোলা পতিত জমি, এমনকি বন্দোবস্তি জমি নিয়ে খাসজমিতে গ্রীষ্মকালীন ফল চাষাবাদ করা হচ্ছে। এভাবে করেরহাট এলাকায় বেশ কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফলের বাগান গড়ে উঠেছে।  করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস, সাইবেনী খিল, ঘেড়ামারা, কালাপানি, বদ্ধ, কয়লাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ফলের চাষ হয়। এসব এলাকায় কয়েকশত আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। এছাড়া সামপ্রতিককালে ব্যক্তিগত উদ্যেগে গড়ে উঠছে লিচু বাগান।

 

এখানকার কাঁঠাল ফেনী, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে পাইকাররা। এবাজারে কাঁঠালের বিকিকিনি অন্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি।

 

 

উপজেলার করেরহাট বাজারের কাঠাল ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন ও নুরুল আলম এবং নিজ বাগানের ফল বিক্রেতা মো ইউসুফ জানান,কাঁঠালের রয়েছে বিভিন্ন জাত যেমন গালা,খাজা রসখাজা, রুদ্রাক্ষি, সিঙ্গাপুর, সিলোন, বারোমাসী, গোলাপগন্ধা, চম্পাগন্ধা, পদ্মরাজ, হাজারী প্রভৃতি। তন্মধ্যে শুধুমাত্র হাজারী কাঁঠাল রয়েছে আমাদের দেশে ।   আমরা নয়টিলা, কালাপানি,কয়লা সহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চল থেকে ফল ক্রয় করি।কখন বাগান সহ আবার কখন ঠিয়া গৃহস্থদের থেকে। ক্রয়কৃত ফল বিক্রয় করি ৫ থেকে ২০ টাকা লাভে,খুচরো ও পাইকারি ক্রেতাদের কাছে।  ছোট সাইজের কাঠালের মূল্য ৪০-৫০ টাকা, মাঝারি সাইজের কাঠালের মূল্য ৬০-৮০ টাকা এবং বড় সাইজের মূল্য ১৮০-২৫০ টাকা।ক্রেতা সাধারনের ভালো সাড়া পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।

 

 

করেরহাট বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় ক্রেতা জিয়াউল হক তারেক তুষার ফল কিনতে এসে জানান,এই বাজারে ২ থেকে ১৫ কেজি ওজনেরও বেশি  কাঁঠাল  উঠে। মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে দাম সহনীয় মাএায় বেশী। আসা করি মৌসুমের মধ্য ভাগে বিভিন্ন জাতের কাঠাল দেখতে পারবো এবং ন্যায্য মূল্যে নিতে পারবো। কাঠাল সিজনের শুরুতে পরিবারের জন্য ফল কিনতে পেরে ভালো লাগছে।

 

এই ফলের হাটের বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়নের স্থানীয় চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, আগামীতে ফলের হাটটি আরো সুসজ্জিত করে তোলার জন্য আমার বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। আর তা খুব শীঘ্রই বলে জানান তিনি।

তবে তিনি গেল বছর ও একই কথা বললে এই পর্যন্ত কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

 

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় মিরসরাইয়ের প্রতিটি বাজারের প্রায় সব মৌসুমি ফলই ফরমালিন তথা বিষমুক্ত। তবে বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় ফল দ্রুত উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্থানীয় চাষীরাও কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও ফরমালিন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *