জাহেদুল হক
আনোয়ারা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২০ ০১:২১:৫৬ || আপডেট: ২০১৯-০৫-২০ ০১:২১:৫৬
আনোয়ারা প্রতিনিধি :
আনোয়ারায় প্রচন্ড গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার অনেক এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
গতকাল রবিবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। গত কয়েক দিন ইফতার,তারাবির নামাজ ও সাহরির সময়ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ে প্রচন্ড গরমে হাসফাস করছে নারী,শিশু ও বৃদ্ধ। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারের ছোট শিশুরা হয়ে যাচ্ছে অসুস্থ। ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন বিপণি কেন্দ্রে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও তা মিলছে না। অথচ আনোয়ারা বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে,আগের চেয়ে এখনকার অবস্থা অনেক ভাল।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী,উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। চাহিদা মাফিক দৈনিক ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অথচ উপজেলার বেশিরভাগ গ্রাহকই চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে রয়েছেন।
জুঁইদন্ডী গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন,‘কাল (শনিবার) কতবার যে বিদ্যুৎ গেছে,তার হিসাব রাখা সম্ভব হয়নি। গরমে ঘরে টিকে থাকার উপায় নেই।’বটতলী রুস্তমহাটের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের দোকানদার হাবিব উল্লাহ জানান,‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জার লাইট ও ফ্যান বিক্রি বেড়ে গেছে।’ গুয়াপঞ্চক গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসাইন বলেন,‘দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবারই এক ঘন্টার নিচে বিদ্যুৎ আসে না। সবচেয়ে বেশি সমস্যা রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশু ও নারীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এখন আনোয়ারায় কোনো সেচ কাজ নেই এরপরও লোডশেডিং কমেনি।’
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ আনোয়ারা জোনের উপমহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন,বেশির ভাগ বিদ্যুৎ লাইন গাছপালার মাঝে দিয়ে টানা। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। এ জন্য বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের কাজ,ব্রেকার ও সঞ্চালন লাইন সংস্কার কাজ চলে। তাই উপজেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে হয়। এসব সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে এমনটি আর হবে না।