শফকত হোসাইন চাটগামী
বাঁশখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২০ ০১:২৯:০১ || আপডেট: ২০১৯-০৫-২০ ০১:২৯:০১
শফকত হোসাইন চাটগামী, বাঁশখালী :
বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ নলকুপে পানি না উঠার কারনে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট হয়ে পড়েছে। ফলে বাশঁখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল, পুইঁছড়ি, কাথরিয়া, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, শীলকুপের পশ্চিমাংশ মনকিচর, বৈলছড়ির পশ্চিমাংশ, কালীপুরের পশ্চিমাংশ সহ বেশ কিছু এলাকায় মোটর, চামাসিয়াল ছাড়া পানি তুলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এসব এলাকায় পানিয় জলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। তার অন্যতম কারন হিসাবে জানা যায় একদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া অপরদিকে কারেন্টের মাধ্যমে মোটর, সামাসিয়াল চালিয়ে গভীর নলকুপের মাধ্যমে অনেক নিচ থেকে পানি তুলে নেওয়ার কারনে এ সমস্যা হচ্ছে বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানালে এ আকার দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
বর্তমানে বাশঁখালীতে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে ।এ বোরো চাষে প্রচুর পরিমান পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে যে বাশঁখালীর অধিকাংশ এলাকায় বর্তমানে পানীয় জলের তীব্র সংকট থাকায় সাধারন জনগন নানা ভাবে সমস্যায় দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বাশঁখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.হারুনুর রশিদ জানান, আমার এলাকায় কয়েকশত নলকুপ থাকলেও বর্তমানে তার বেশিরভাগ নলকুপে পানি না উঠার কারনে সাধারন জনগন পানীয় জলের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। উপকুলীয় এলাকায় লবনাক্ত পানি থাকার কারনে এখানকার জনগনের নলকুপের প্রচুর চাহিদা প্রয়োজন হলে ও সে অনুসারে পাওয়া যায় না সরকারি ভাবে। ব্যক্তিগত ভাবে নলকুপ বসাতে এক লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকার প্রয়োজন। শেখেরখীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় কোন নলকুপ নেই। সরকারি ভাবে এবং বিভিন বেসরকারি সংস্থা ও ইপসার মাধ্যমে প্রদক্ত কিছু নলকুপ পাওয়া গেলে ও তা সংখ্যায় নগন্য।
ফলে বর্তমানে এ মৌসুমে অধিকাংশ নলকুপে পানি না উঠার কারনে জনগন নানা ভাবে কষ্টের স্বীকার হচ্ছে পানি নিয়ে। একই কথা বললেন বাশঁখালীর উপকুলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট বদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, চাম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী, বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। জানা গেছে, বর্তমানে বাশঁখালীর পশ্চিমাংশের অধিকাংশ এলাকায় এক হাজার থেকে বার তের ফুট গভীর গিয়ে পানি পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। অনেক সময় পানির স্তর পাওয়া গেলেও এ মৌসুমে ৩/৪ মাস খাবার পানি পাওয়া অনেক দুস্কর হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বাশঁখালীর দায়িত্বরত উপ-প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান দেওয়ানজী জানান, দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে আগের বসানো নলকুপ গুলোতে এ মৌসুমে পানি উঠছেনা। তাছাড়া সরকারি ভাবে বর্তমানে তরা পাইপ নহ যে নলকুপ দেওয়া হচ্ছে তা ও সহজলভ্য নয়। চাহিদা বেশি সরবরাহ কম। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে বোরো চাষের কারনে পানির ঘাটতি থাকে বলেন জানান তিনি। বাশঁখালীর পানিয় জলের সমস্যা নিরসনে আরো বেশি গভীর নলকুপ স্থাপন করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাধারন জনগণ।