চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

প্রদীপ শীল রাউজান প্রতিনিধি

ঈদকে সামনে রেখে দর্জিদের দিবারাত্রি ক্রম ব্যস্থতাঃ মেশিনের ঝর ঝর শব্দে আনন্দ উচ্ছাস রাউজানে

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৬ ০১:২১:০১ || আপডেট: ২০১৯-০৫-২৬ ০১:২১:০১

প্রদীপ শীল, রাউজান প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রাউজানে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি কারিগররা । ঈদ জন্য নতুন জামা কাপড় ও পছন্দের পোশাক তৈরি করতে দর্জি দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। তবে রাউজান উপজেলা জুড়ে ঘুম নেই দর্জি । আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরিতে মেতে উঠেছেন দর্জিরা।ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে দর্জির কারিগরদের । ঈদ আসলেই দর্জি দোকানগুলোতে লক্ষ্য করা যায় ছোট, বড়সহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের। সরজমিনে ঘুরে দেখে যায়- রাউজান উপজেলার এলিগ্যান্ট টেইলার্স, রেমন্ড টেইলার্স, দি ল্যান্ড মার্ক টেইলার্স, অক্সফোর্ড টেইলার্স শারমিন টেইলার্স, খাজা টেলাইর্স, শুডলাক টেইলার্স, ডিসেন্ট প্লাস টেইলার্স, দি ফ্রেন্ডস টেইলার্স, গহিরা মনে রেখ টেইলার্স, আল্ মদিনা টেইলার্সের কারিগররা নর-নারীদের পোশাক তৈরিতে চরম ব্যস্ত সময় পার করছে।

ইতিমধ্যে দর্জির দোকান গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় । তাদের পছন্দের পোশাক বানাতে। আর মাত্র কয়েকদিন পর মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর। তাই ঈদকে সামনে রেখে নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন রাউজান উপজেলার প্রায় এক হাজারেরও অধিক দর্জি। এরমধ্যে বেশকিছু দর্জির দোকান রয়েছে উপজেলার ফকির হাট বাজার, রাউজান পৌর মার্কেট, ডিউ শপিং মল, রাউজান থানা রোড , মুন্সির ঘাটা, আবছার মার্কেট, গহিরা বাজার, নোয়াজিষপুর নতুন হাট বাজার থেকে দক্ষিণ রাউজান নোয়াপাড়া পথের হাটসহ পাহাড়তলি পর্যন্ত । প্রতিদিন সকাল থেকে দিবারাত্রি দর্জিদের সেলাই মেশিনের ঝর ঝর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো উপজেলা। ঘড়-ঘড় শব্দে একটানা চলছে সেলাই মেশিনগুলো। এমনকি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দূর থেকে শোনা যাচ্ছে মেশিনের শব্দ। হাতে-পায়ে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন দর্জি। দর্জিদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। গ্রাহককের চিহিদা মেটাতে পছন্দের জামা কাপড় তৈরি করতে দর্জির ঘুম নেই বলেও চলে । কারিগররা কেউ মাপ নিচ্ছে, কেউ কাপড় কাটছে, কেউ আবার সেলাই করছে, কেউবা বোতাম লাগিয়ে স্ত্রী করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা তৈরি করে সাজিয়ে রাখছে । এখন আর অর্ডার না নিলেও অর্ডার নেওয়া কাজ ঈদের আগে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে । এবার রোজার শুরু থেকেই টেইলার্স গুলোতে ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা আর মেয়েদের থ্রি-পিস, ব্লাউজ, বোরকা তৈরির অর্ডার আসতে থাকে। রোজা যত বাড়ছে কাজের চাপ তত বাড়বে বলে প্রত্যাশা কারিগরদের।

আর এইসব কাজ সময়মত বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক টেইলার্সে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করেছে। গহিরা আল্ মদিনা টেইলার্সের মালিক তারেক জানান – রোজার আগে কাজের অর্ডার বেশি থাকায় ডেলিভারি দিতে হিমসিম খাচ্ছি। তিনি আরও জানান, কাজের অর্ডার এখন পর্যন্ত অনেক। নতুন করে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। গহিরা মোবারক খীল থেকে আসা গ্রাহক আরিসুল খাঁন বাবর জানান- ঈদের সময় সবাই চায় নতুন পোশাক পরতে । তাই তিনি ছোটবেলা থেকেই তৈরি করা পাঞ্জাবি, পায়জামা ও শার্ট-প্যান্ট পরেন। প্রতি বছর দুই থেকে তিন সেট পোশাক বানাতে হয় তার। ব্যতিক্রম হয়নি এবারের ঈদেও। তিনি আরো জানান – তার ছেলে, মেয়রসহ পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক বানাতে দর্জির দোকানে আসা। কারণ একটাই রেডিমেড পোশাকের চাইতে বানানো পোশাক ভালো হয়। ঈদ উপলক্ষে দর্জিরা মজুরি নিচ্ছে বেশি। যদি দামটা একটু কম থাকতো তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভালো হতো । তবে দর্জিরা বলছে, ঈদকে সামনে রেখে গত বছরের চেয়ে এবছর প্রচুর অর্ডার আসছে । তাই দোকানভাড়া, দর্জি কারিগদের পারিশ্রমিক , বিদ্যুৎ বিলসহ সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ছেলেদের প্যান্ট ৩০০- ৩৫০ টাকা, শার্ট ২০০- ২৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ৩৫০- ৪০০টাকা, পায়জামা ২০০ – ২৫০ টাকা মেয়েদের থ্রি-পিস ২০০ – ২৫০ টাকা, কামিজ ১৫০ – ২০০ টাকা, মজুরি নেওয়া হচ্ছে।

তারা আরো জানান অন্যান্য সময়ে একটি প্যান্ট ,শার্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, মেয়েদেন থ্রি-পিস, কামিজসহ বিভিন্ন পোশাক থেকে বাড়তি মজুরি নেওয়া হচ্ছে ১০০টাকা। কিন্তু ঈদের সময় কারিগরদের পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় এর মজুরি দাঁড়ায় ৩০০- ৪০০ টাকা। তারা আরো বলেন, ভালো ব্যবসার জন্য ঈদ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময়ে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় এবং তা অব্যাহত থাকে চাঁদ রাত পর্যন্ত। তবে দর্জি দোকানে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি । ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবির দোকান গুলোতে তেমন ভিড় না থাকলেও মেয়েদের পোশাক তৈরির দোকান গুলোতো রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। দেশিয় পোশাকের চেয়ে বিদেশি বিভিন্ন নাটক, সিরিয়ালের নামে পোশাকের প্রতি চাহিদা বেশি দেখা গেছে। দোকান গুলোতে তরুণ-তরুণী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষদের আসা যাওয়ায় মূখরিত হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *