চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় প্রতিবন্ধী আরাফাতকে হুইল চেয়ার দিলেন ইউএনও

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৯ ০২:০৩:১৮ || আপডেট: ২০১৯-০৫-২৯ ০২:০৩:১৮

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : পটিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান প্রতিবন্ধী আরাফাত (১৮) এর পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিবন্ধী আরাফাত পঙ্গুত্বের কারণে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। যা তিনি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হাসানকে খুলে বললে তিনি তাৎক্ষণিক তাকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করে তার চলাফেরায় ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে যান এবং ইউএনও মো. হাবিবুল হাসানের কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। আরাফাত পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের কুমার পাড়া এলাকার মুহাম্মদ মুছার পুত্র। তার বাবা মুছা একজন সিএনজি অটো রিক্সা চালক। তার আরো দুই বোন রয়েছে।

জন্মের পর থেকে আরাফাতের দুইটি পা পঙ্গু হয়ে যায়। সে ছোট কাল থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিল। গত ৫ বছর ধরে তার বাবা তাকে একটি লোহার স্ট্রাকচার কিনে দেয়। এটি দিয়ে সে পটিয়া পৌর সদরে এসে বিভিন্ন লোকজন থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। অনেক সময় সে পটিয়া উপজেলা মসজিদেই পরে থাকত। এ অবস্থা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান’র দৃষ্টিগোচর হলে তিনি মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করে আরাফাত যাতে সহজে চলাচল করতে পারে তার জন্য তিনি একটি ৯ হাজার টাকা দামের হুইল চেয়ার ক্রয় করে গতকাল আরাফাতের হাতে তুলে দেন। এছাড়া এক জায়গায় বসে আরাফাত যাতে বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যাদি বিক্রয় করে তার জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হাসান তাকে নগদ ৬ হাজার টাকা প্রদান করেন। গতকাল মঙ্গলবার তাকে হুইল চেয়ার ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানান, আরাফাত এর স্ট্রাকচার দিয়ে চলাফেরা তার খুব কষ্ট লাগছিল। তাই আরাফাত সহজভাবে চলাফেরা করার জন্য উপজেলার দরিদ্র তহবিল থেকে ১৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়ে নগদ টাকা ও হুইল চেয়ারটি দেওয়া হয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে মো. আরাফাত বলেন, আমি যেন জন্ম থেকেই জ্বলছি। নিজের পা পঙ্গু হওয়ায় কোনো কিছু করতে চাইলেও করতে পারিনি। আজ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হাসানের মহানুভবতা আমাকে কিছু করে জীবন চালানোর সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন, শত শত বছর এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকেন এবং পথ হারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *