চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় ঈদ বাজারের সড়ক গুলো যানজটে নাকাল : দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-৩০ ০০:১০:৪১ || আপডেট: ২০১৯-০৫-৩০ ০০:১০:৪১

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : আর ৫ দিন পরেই এগিয়ে আসছে ঈদুল ফিতরের দিন। তাই পটিয়ার প্রাণ কেন্দ্রের বিভিন্ন মার্কেটে বিকিকিনি করতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করার যাচ্ছে। এতে প্রধান প্রধান সড়ক গুলো এখন এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে। চলাচল করতে পারছে না কোনো যানবাহন। আজ সকাল থেকে রাত অবদি এ অবস্থা বিরাজ করে শহীদ আবদুস ছবুর রোড, রেল ষ্টেশন রোড, ক্লাব রোড ও আদালত সড়ক সহ বিভিন্ন উপ-সড়কে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে একাধিক ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান চললেও এর সুফল স্থায়ী হয়নি। সকালে অভিযানে সড়ক ফাঁকা হলেও বিকেলে আবারো দোকানিরা সড়কে তাদের মালামাল এর পসরা সাঁজানোর ফলে জনসাধারণকে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

জানা যায়, পটিয়া সাবেক মহকুমা সদর হিসেবে শুধু এর পৌরসভা এবং ইউনিয়ন নয়, পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষ এখানে ঈদের শপিং করতে আসায় এখানে ঈদ উৎসবের কেনা কাটা বেশ জমে উঠে। সে হিসেবে ২০ রমজানের পর থেকে পটিয়ায় বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও রাঙ্গুনিয়ার অনেক ক্রেতা ভিড় করছে বিভিন্ন মার্কেটে। ফলে এ পটিয়ায় এখন এক প্রকার উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মার্কেটে আসা ক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, আমি চন্দনাইশ থেকে এখানে শপিং করতে এসেছি। প্রথমে কিছুটা হালকা পরিবেশ থাকলেও এখন এত বেশী ক্রেতা যে, দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছি না। পটিয়ার আলম ফ্লাজা, পটিয়া নিউ মার্কেট, ছবুর মার্কেট, রহমান মার্কেট, আর.এন মার্কেট, দেলাল মিয়া শপিং মল, শাহ তৈয়্যবিয়া মার্কেট, কাশেম মার্কেট, গুলজান সুপার মার্কেট, পটিয়া সুপার মার্কেট, শাহ আমির মার্কেট এখন বেশ জমজমাট বলেই মনে হচ্ছে। এখানে সকাল থেকেই ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করছে। তবে ষ্টেশন রোডের আবুল কাশেম মার্কেটে প্রস্তাবিত এলাকায় বর্তমানে একটি ভ্রাম্যমান ঈদ বাজার বেশ জমে উঠেছে। এখানে ২০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা দামের শাড়ী সহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে আয়োজকরা জানান। বলতে গেলে পটিয়ায় এখন কেনা বেচায় বেশ প্রতিযোগিত হচ্ছে। ভ্রাম্যমান বাজার আসায় ক্রেতারা সব জায়গায় ঘুরে নিজেদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে কামরুল ইসলাম জানান।

পটিয়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা ক্রেতাদেরকে সর্বোাচ্চ কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করছি। এখানে কারো কাছ থেকে বেশী দাম নেওয়া হচ্ছে না। পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, পটিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ বাজার এগিয়ে চলছে। আমরা এখানে যাতে কোনো ধরণের চাঁদাবাজি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার নিয়োগ করেছি। এছাড়াও কোনো ছোট-খাটো অঘটন বা ইভটিজিংয়ের মত কোনো ঘটনা চোখে পড়লে সরাসরি আমাদেরকে জানানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি। যদি এ ধরণের কিছু ঘটে তাহলে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেননা এ পটিয়ায় বিগত ১২ বছরে মাননীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী চাঁদাবাজ, মাস্তান ও দখলবাজদের বিতাড়ন করতে জিরো টলারেন্সে ছিলেন। তিনি এখনো একই অবস্থায় আছেন। আমাদেরকেও এব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *