রফিকুল আলম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-০৩ ০১:১৯:৫৫ || আপডেট: ২০১৯-০৬-০৩ ০১:১৯:৫৫
রফিকুল আলম : ফটিকছড়িতে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনীতে এক পাগল নিহত হয়েছে। ২ জুন রবিবার দুপুরে স্থানীয় বখতপুর চারা বটতল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ফটিকছড়ির বখতপুর চারা বটতলে দাড়িয়ে থাকা স্থানীয় গোলদার বাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র ও মুকিম শাহ বাড়ীর দিনমজুর আবু বকরের পুত্র মোহাম্মদ মাহিন (১২) কে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ইশারায় ডেকে রাস্তায় শুয়ে পড়তে বলে। মাহিন না শুইলে তাকে সিএনজিতে তুলে নিতে চায়। এতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শিশু মাহিন চিৎকার শুরু করলে পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে লোকজন গিয়ে তাকে রক্ষা করে এবং অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তিকে ধরে জনতা গণপিটুনী দেয়।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সোলাইমানের নির্দেশে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তার মৃতদেহ ফটিকছড়ি থানায় নিলে অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। গণপিটুনীতে নিহতের নাম মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন (৩০)। সে মাদ্রাসায় পড়াকালে ১৫ বছর পূর্বে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন পূর্ব সুয়াবিল কার্পাসপাড়ার মৃত আব্দুস সালামের পুত্র। মানসিক রোগী হওয়ায় প্রায়শ তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
গতকাল সকালে মায়ের কাছে আকুতি জানালে ঘরের শিকল খুলে দেয় এবং একটু বাড়ীঘাটায় বেরোয়। তারপরই সেখান থেকে সে উধাও হয়ে যায় এবং ১৫ কিলোমিটার দুরে গিয়ে গণপিটুনীতে নিহত হয়। খবর পেয়ে নিহত পাগলের মা ছুটে যায় ফটিকছড়ি থানায়; মায়ের আর্তনাদে শোকের ছায়া নেমে আসে থানা এলাকায়।