প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২৮ ২৩:৫৬:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৬-২৮ ২৩:৫৬:১০
আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : মা মারা গিয়েছে এক মাস হলো, মায়ের জেয়াফতের জন্য দিনমজুর ছেলে হানিফ বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে নিয়ে যান। ৭ কেজি গরুর মাংস বাড়িতে নিয়ে দেখেন সব পঁচা মাংস, গন্ধ বের হচ্ছে। তিনি অভিযোগ জানাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে মাংস নিয়ে গেলে তিনি অভিযোগ শুনে মাংস বিক্রেতার দোকানে অভিযান চালাতে যান। অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যান মাংস বিক্রেতা। বুধবার (২৭ জুন) রাত ৮ টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজা নগর ইউনিয়নের ধামাইর হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “ দিন মজুরী করে লোকটি। মায়ের জেয়াফতের জন্য ৭ কেজি মাংস কিনেন ক্রেতা মো. হানিফ। পঁচা মাংস নিয়ে তিনি আমার অফিসে আসলে তাৎক্ষনিক বাজারে গিয়ে অভিযান চালায়।
অভিযানের আগেই মাংস বিক্রেতা মো. শফি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাজার সমিতির নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে মাংস ক্রেতাকে সহযোগিতা করতে বলি।” দক্ষিণ রাজা নগর ইউনিয়নের শিয়ালবুক্কা গ্রামের মাংস ক্রেতা মো. হানিফ বলেন, “ আমার মা মারা গেল এক মাস হচ্ছে। ধার করে জেয়াফতের আয়োজন করছি। ৩ হাজার ৫ শ টাকা দিয়ে ৭ কেজি মাংস কিনলাম। কেনার পর ওই মাংস বিক্রেতা মো. শফির কাছে মাংস রেখে মসলা কিনতে গেলে মাংসগুলো বদলিয়ে পঁচাবাসি গরুর মাংস থলের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়। বাড়িতে গিয়ে দেখলাম সব পঁচা মাংস। ” জানতে চাইলে ধামাইর হাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল ইসলাম বলেন, “ দিন মজুর হানিফকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিক্রেতা মাংস বিক্রি করেন। কিছুদিন আগেই ওই বিক্রেতা এই রকম একটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তার কাছ থেকে মুচলেকাও নেয়া হয় যাতে আর কোনো সময় এই কাজটি না করেন।
আজকের ঘটনার পর বিক্রেতা পলাতক থাকায় সমিতির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছিনা। অচিরেই ব্যবসায়ী সমিতি ওই মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। মাংস ক্রেতাকে মানবিক কারনে তাৎক্ষনিকভাবে ৩ হাজার ৫ শ টাকা বাজার সমিতির পক্ষ থেকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। ”