চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

হিল্লোল দত্ত আলীকদম, বান্দরবান প্রতিনিধি

আলীকদমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের দ্বন্দ্ব চরমে,দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৪ ০০:১৬:০০ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ০০:১৬:০০

হিল্লোল দত্ত, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি : পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা একে অপরের বাসায় ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে মর্মে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে দুই পক্ষ। সোমবার আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া রীতা প্রভা সুশীল এর স্বামী টিটু শর্মা একই কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম এবং তার স্ত্রী সিনিয়র ষ্টাফ নার্স ফাতেমা জান্নাত হান্না’র বিরুদ্ধে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুর রহমান এর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগে প্রকাশ, আমার স্ত্রী রীতা প্রভা সুশীল আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন আয়া। ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম ও তার স্ত্রী সিনিয়র ষ্টাফ নার্স ফাতেমা জান্নাত হান্না বিভিন্নভাবে আমার স্ত্রীকে হয়রানি ও চাকুরী চ্যুত করার হুমকি প্রদান করে আসছে। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ প্রদান করায় আবুল কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে শারীরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করার চেষ্টা করে। গত ১৯ জুন এলাকার বখাটে ছেলে মোঃ আনিসের দ্বারা ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

এদিকে ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম বাদী হয়ে টিটু এবং রীতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগে আবুল কালাম দাবি করেন, রীতা প্রভা সুশীল প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকে। আমার স্ত্রী হান্না ওয়ার্ড ইনচার্জ হওয়ায় রীতার অনুপস্থিতির প্রতিবাদ করে এবং হাজিরা খাতায় তাকে অনুপস্থিত দেখায়। এই নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রীতার স্বামী টিটু চিহ্নিত চোর ও ইয়াবা ব্যবসায়ী আনিসের দ্বারা আমাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে রেকর্ডিং করে এবং বাইরের মানুষ দিয়ে বাসায় অস্ত্র ঢুকিয়ে দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঘটনার বিষয়ে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান একটি লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করলেও মঙ্গলবার সকালে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তিনি ফাতেমা জান্নাত হান্না এবং আবুল কালামকে সাথে নিয়ে ওই হাসপাতালের অফিস সহায়ক গৌতম দে’র পুত্রবধু শিউলী দে’র বাসায় গিয়ে তাকে টিটুর বিরুদ্ধে জোর পূর্বক মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য বল প্রয়োগ করে এবং মিথ্যা সাক্ষী না দিলে তার স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে এবং ঐসময়ে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কিছু জানালে তার শ্বাশুর ও শ্বাশুরীকে আলীকদম থেকে দূরে বদলী করা হবে বলে শিউলী দে’র স্বামী শুকান্ত দে এ প্রতিবেদককে জানান। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান স্বাক্ষীর অানীত অভিযোগের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন। অন্যদিকে শিউলী দে সাংবাদিকদের জানান, আমি কারো কোন ঘটনার বিষয়ে কিছু জানিনা। তবুও আমাকে জোর পূর্বক স্বাক্ষী বানানোর জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স ফাতেমা জান্নাত হান্না এবং ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম আমার বাসায় এসে আমাকে চাপ প্রয়োগ করেন। আমি স্বাক্ষী না দিলে আমার স্বামী ও শ্বশুর- শ্বাশুরীর ক্ষতি হবে বলে হুমকি প্রদান করেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান সিভিল সার্জেন্ট অংশুই প্রু চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তিনি আরো বলেন, একজন কর্তার কাছে তার সমস্ত কর্মচারীর সমান অধিকার থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। যদি এর ব্যত্বয় ঘটে তাহলে তাকে তার ফল ভোগ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *