নীরব জসীম
ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২০ ২৩:৫৪:১৭ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২০ ২৩:৫৪:১৭
নিউজ ডেস্ক : বিল পরিশোধ না করায় আড়াই মাস আগে বিচ্ছিন্ন করা হয় চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন এলাকা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে বন্ধ রয়েছে সেখানকার সড়কবাতিগুলো। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে তৈরি হচ্ছে ভুতুড়ে পরিবেশ। পুরো এলাকা অন্ধকার থাকায় পর্যটকরাও ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়। তাদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশও। তাই সৈকত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সড়কবাতি না জ্বলায় সমুদ্রসৈকতে ছিনতাই, মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে গেছে।
পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ূয়া বলেন, পতেঙ্গা সৈকতে সমুদ্রঘেঁষা রেলিংয়ের পাশে এক লাইন সোলার বাতি রয়েছে। যেটি পর্যাপ্ত নয়। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখন অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু সব সময় তো তা সম্ভব হবে না। তাহলে থানার অন্য এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের পর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ঢল নামছে। তারা রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত এখানে অবস্থান করে। কিন্তু দুই মাস ধরে সমুদ্রসৈকতের সড়কবাতিগুলো আর জ্বালানো হচ্ছে না। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। কোনো এলাকা অন্ধকার থাকলে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ কার্যক্রম বেড়ে যায়। বিষয়টি জানিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে সিডিএকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (হালিশহর) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী টানেলের খনন কাজের উদ্বোধন করতে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তখন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের মৌখিক অনুরোধে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন মাসে তারা কোনো বিল পরিশোধ করেনি। দুই লাখ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া বিল পরিশোধে সিডিএকে চিঠি দেওয়া হয়। তখন তারা জানায়, তাদের চলমান প্রকল্পে বিদ্যুৎ বিলের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তাই তারাই পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে বলেছে। মে মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
আউটার রিং রোড প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ সমকালকে বলেন, পিডিবি পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছিল। তারাই পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ পুরো শেষ হলে স্থায়ীভাবে আলোকায়ন করবে সিডিএ। আপাতত সোলার লাইট আছে। দর্শনার্থীদের এখন কিছুটা সমস্যা হবে। এ ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।
প্রসঙ্গত, প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ প্রকল্পের আওতায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সৌন্দর্যবর্ধিত সৈকতের একাংশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সূত্র : সমকাল