চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারায় রূপালী ইলিশে জেলেদের মুখে প্রাপ্তির হাসি

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৫ ২৩:৪৮:০৯ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২৫ ২৩:৪৮:০৯

জাহেদুল হক,আনোয়ারা :
আদিকাল থেকে বাঙালির পাত আলো করে রাখা মীনশ্রেষ্ঠ বলতে বোঝায় রূপালী ইলিশ। সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় ভাদ্র মাসের শুরুতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। জো-এর দিনক্ষণ মিলিয়ে আনোয়ারা উপকূলে জমে উঠেছে রূপালী ইলিশের মেলা। উপকূলজুড়ে জেলেদের মুখে তৃপ্তির ঢেকুর আর সোনালী হাসি। ইলিশের গন্ধ মুহু মুহু ধ্বনিতে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ঘর থেকে উঁচু মহল পর্যন্ত এখন ইলিশের স্বাদে আচ্ছন্ন। তবে দাম চড়া হওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা সেই স্বাদ পাচ্ছেন না।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের দাবি,সরকারের পক্ষ থেকে মা ইলিশ ধরা বন্ধ,জাটকা নিধনে কড়াকড়িসহ সর্বশেষ ৬৫ দিনের বন্ধে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকায় সাগরে বড় ইলিশ দেখা যাচ্ছে বেশি।
গতকাল রবিবার দুপুরে গহিরা ফকিরহাট এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,গত তিন দিনে সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই করে ঘাটে ফিরেছে অর্ধশতাধিক ট্রলার। ফিরে আসা ইলিশ ভর্তি এসব ট্রলার গহিরা উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ইলিশের দেখা না পেলেও এখন কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করায় হাসি ফুটেছে জেলে,আড়তদার ও মৎস্যজীবীদের মুখে। কেউ ইলিশ মাছের ঝুড়ি টানছেন, কেউ প্যাকেট করছেন,আবার কেউ কেউ সেই প্যাকেট বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে।

আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্র জানায়,উপজেলার খুরুসকুল গোদারপাড় থেকে পারকি সৈকত পর্যন্ত প্রায় ২০টি ঘাটে তালিকাভুক্ত ৭৮৪টি মাছ ধরার নৌযান আছে। এর বাইরেও অর্ধসহ¯্রাধিক নৌকা দিয়ে সাগর ও শঙ্খের মোহনা থেকে মাছ আহরণ করে জেলেরা। দীর্ঘ ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর জুলাইয়ের শেষের দিকে সাগরে মাছ ধরতে যান তারা। সেসময় তাদের জালে তেমন ধরা পড়েনি ইলিশ। তবে ভরা মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।
মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান,এবারে মোটামোটি ভাল সাইজের ইলিশ পাওয়া গেছে। ৩৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাইকারীতে প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ৮০০ থেকে এক কেজির বেশি হলে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ বরফ দিয়ে বাজারজাত করে ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও আবদুল্লাহপুরে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত ইলিশের দাম চড়া থাকায় স্থানীয় বাজারে তেমন মিলছে না। এ কারণে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ইলিশের স্বাদ নিতে পাচ্ছেন না।

এফবি আল্লার দান নামক ট্রলারের মালিক নজির আহমদ বলেন, মৌসুমের শুরুতে ইলিশ না মিললেও এবারে তার ট্রলারের মাঝিমাল্লারা পেয়েছেন দুই হাজার পাঁচশ ইলিশ। গড়ে একশ মাছ তের হাজার টাকা দামে বিক্রি করে পেয়েছেন তিন লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে দুই লক্ষ টাকারও বেশি তার লভ্যাংশ মিলেছে। আবহাওয়া ভালো হলে তারা আবার মাছ ধরতে সাগরে ফিরে যাবেন। সাগরে এবার জলদস্যু আতঙ্ক আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান,মাঝে মধ্যে জলদস্যুদের শিকার হতে হয় জেলেদের। তাদের হাতে অপহৃত বা চাঁদাবাজির কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। সাগরে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ হুমায়ুন মোরশেদ জানান,সরকারি নির্দেশে দীর্ঘ দুই মাস পাঁচ দিন মাছ ধরা বন্ধে সফলতার কারণে সাগরে ইলিশ বেড়েছে। এছাড়া নদীর স্রোতে বেড়ে যাওয়ায় সাগর থেকে শঙ্খের মোহনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ উঠে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *