চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

মিজবাউল হক চকরিয়া অফিস

চকরিয়ায় ঘের কর্মচারী কাসেমকে বন্দুক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৩ ২৩:২৯:১৭ || আপডেট: ২০১৯-০৯-০৩ ২৩:২৯:২৪

চকরিয়া অফিস : চকরিয়ার চিংড়িঘের জবরদখলের জন্য ঘের মালিককের সঙ্গে বিরোধ থাকা প্রতিপক্ষের ভাড়াটে লোকজন নিরীহ ঘের কর্মচারী মীর কাসেমকে আটক করে একটি বন্দুক দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আটকের পর থানায় এনে পুলিশও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে চিংড়িঘেরে ডাকাতির চেষ্ঠা সাজিয়ে থানায় একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় আমার স্বামী মীর কাসেমসহ আরও অনেককে আসামি করেছে। পুলিশ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আমার নিরাপরাধ স্বামী মীর কাসেমকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। অথচ আমার স্বামীর বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে অতীতে কোন ধরণের মামলা নেই। সে কোন ধরণের খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িতও নেই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া পৌরশহরে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও ঘটনায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করে পাঁচমাসের শিশু সন্তানকে কুলে নিয়ে এসব অভিযোগ করেছেন মীর কাসেমের স্ত্রী তাহেরা বেগম। এসময় সংবাদ সম্মেলনে মীর কাসেমের খালা ও ফুফু উপস্থিত ছিলেন। মীর কাসেম মহেশখালী উপজেলার কালামারছড়া ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের আকবর হাজি পাড়া এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করছেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের মকবুল মেম্বারের চিংড়িঘেরে। সংবাদ সম্মেলনে তাহেরা বেগম (২৬) জানান, ঘটনার দিন গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘের থেকে বাড়ির জন্য কিছু মাছ নিয়ে হেঁেট বদরখালী জেটিঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। ওইসময় তিনি বদরখালীর ষাটখালীপাড়াস্থ জাহেদ সওদাগরের দোকানের সামনে পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে উৎপেতে থাকা ঘের মালিককের সঙ্গে বিরোধ থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন অস্ত্রের মুখে মীর কাসেমকে আটক করে চকরিয়া উপজেলার চোয়ারফাড়ি এলাকায় নিয়ে এসে একটি বন্দুক দিয়ে চকরিয়া থানার এসআই আবদুল বাতেনের হাতে তুলে দেন।

মীর কাসেমের স্ত্রী তাহেরা বেগম অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করছেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের মকবুল মেম্বারের চিংড়িঘেরে। মুলত মকবুল মেম্বারের ওই ঘেরটি জবরদখলের জন্য চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার নবী হোসেন প্রকাশ নবী চৌধুরী নামের একব্যক্তি দীর্ঘ সময়ধরে অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছেন। সেই কারণে ঘের মালিক মকবুল মেম্বারকে হয়রাণি করতে এবং ঘেরটি সহজে দখলে নিতে পুর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমার নিরাপরাধ স্বামীকে বাড়ি যাওয়ার পথে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। ওইদিন নবী হোসেনের নির্দেশে তাঁর সহযোগি হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি কাইছার, কামাল উদ্দিন ও বাবুসহ ৭-৮জন অস্ত্রধারী আমার স্বামীকে পথরোধ করে আটক করেন। তারপর তাঁরা আটক করে চকরিয়া উপজেলার চৌয়ারফাড়ি এলাকায় নিয়ে এসে চকরিয়া থানার এসআই আবদুল বাতেনের হাতে একটি বন্দুক দিয়ে তুলে দেন। সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী তাহেরা বেগম তাঁর নিরাপরাধ স্বামীকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও টাকার বিনিময়ে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি এ মিথ্যা মামলা থেকে তাঁর স্বামীকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ বাহিনীর সততা ও ভাবমুর্তি রক্ষা করার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *