admin
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৬ ১৬:৩৫:২৭ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৬ ১৬:৪৫:৫৪
বান্দরবান প্রতিনিধি :
অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ
(১৯৭৬-২০১৯খৃ.)
(এমফিল গবেষক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা)
সভাপতিঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শাখা।
ব্যক্তিগত পরিচিতিঃ
পিতাঃ মরহুম হাজি ছালেহ আহমদ
মাতাঃ আয়েশা খাতুন
ঠিকানাঃ নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, ২৭০ নং মৌজা, বান্দরবান পার্বত্যজেলা
জন্মঃ ১৩ এপ্রিল ১৯৭৬ ইং
রক্তের গ্রুপঃ ‘এ’ পজেটিভ
জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী
বৈবাহিক অবস্থাঃ বিবাহিত। ১ ছেলে ৩ মেয়ে। স্ত্রী শামসুদ্দোহা কুসুম (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স)
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারঃ
আমি ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ করি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের ২০০১ সালের কমিটিতে শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হই।
২০০২ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ছিলাম।
২০০৮ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে সফলতার সাথে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করি। ২০০৯-২০১১ সালের শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব, পরবর্তী উপজেলা কমিটির নির্বাচিত সহসভাপতি ছিলাম। ২০১৫ সাল থেকে উপজেলা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০১৮ সালের ২ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ১৭০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে দেড়শতাধিক কাউন্সিলরের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হই। নিজের জমিতে বিনাভাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করি। সেখানেই দলীয় যাবতীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
আমার সার্বিক সহযোগিতা ও সহায়তায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাঙ্গনে ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি’ নির্মাণ হয়।
শিক্ষানুরাগ, জনসেবা, ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড :
আমি নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য, নাইক্ষ্যংছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মডেল ইন্সটিটিউট আলিম মাদরাসা, আসারতলী তাফহীমুল কুরআন মাদরাসা, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী কিশলয় (আবাসিক) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারের চৌধুরী, কিশলয় ট্রাস্টের সহসভাপতি, কক্সবাজার শহরের পূর্বকলাতলী আদর্শ শিক্ষানিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। আর্থিক অনুদান ও একান্ত সহযোগিতায় সোনাইছড়ি উচ্চবিদ্যালয়, লেমুছড়ি উচ্চবিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা।
আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে ‘ছালেহ আহমদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান। নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে একটি মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘুমঘুমে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলছে। ২০০০ সালে নাইক্ষ্যছড়ি এম.এ কালাম ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক যোগদান করি । পেশাগত ও ব্যবসায়িক কাজে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চিন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইউএই, সৌদিআরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করি।
শিক্ষাজীবনের সেকাল থেকে একালঃ
শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে ৫ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জণ করি। ১৯৮৯ সালে নিম্নমাধ্যমিকে জুনিয়ার বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ কেন্দ্র পর্যায়ে প্রথম হই। ছালেহ আহমদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় (বিজ্ঞান বিভাগ) সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে প্রথম স্থানে উত্তীর্ণ হই। ছাত্রজীবনে আমি একজন ভালমানের স্কাউট সংগঠক ও জাম্বুরি-ক্যাম্পুরি প্রশিক্ষক ছিলাম।
চট্রগ্রাম কলেজে অধ্যয়নকালে বিএনসিসি ক্যাডেট ছিলাম। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বিভিন্ন ইভেন্টে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করি। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগসহ এইচএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স (বাংলা)-এ ভর্তি হলেও পিতার মৃত্যুজনিত কারণে সঠিক সময়ে অনার্স সম্পন্ন করা হয়নি।
১৯৯৬ সালে স্নাতক, ১৯৯৭-৯৮ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ‘সরকার ও রাজনীতি’ বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে এমএসএস (মাস্টার্স) পাশ করি।
উচ্চতর ডিগ্রীর মানসে ‘বাংলাদেশ মায়ানমার সম্পর্ক ও রোহিঙ্গা সমস্যা’ বিষয়ে ‘এমফিল’ গবেষণার জন্য ২০০৩-২০০৪ সেশনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে ভর্তি হই।
পারিবারিক অবস্থান ও পরিচিতিঃ
আমরা ৪ ভাই ৭ বোনের মধ্যে আমি চতুর্থ, ভাইদের মধ্যে সবার বড়। বোনদের মধ্যে ১ জন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, ১ জন আইনজীবী ও ২ জন ব্যাংকার। বাকী ৩ বোন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী।
ছোট ১ ভাই মরিসাসের ‘প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত সনামধন্য বিজ্ঞানী। মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিভার্সিটি মালয়া’-থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে সেখানে ৫ বছর সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছোট ভাই বর্তমানে ইউএস মেরিল্যান্ড প্রদেশে শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসায় নিয়োজিত এবং স্বপরিবারে ৪ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাসরত।
পৈত্রিক ও বংশ পরিচিতি এবং অবদানঃ
আমার পিতা মরহুম হাজি ছালেহ আহমদ আধুনিক নাইক্ষ্যংছড়ির রূপকার, ১৯৭৩-৭৪ সালে বাকশালের নাইক্ষ্যংছড়ি থানা গভর্নর। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করেন। নিজস্ব অর্থায়নে রামু-নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘ছালেহ আহমদ সড়ক’ নির্মাণ করেন আমার পিতা।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নবোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার জন্য ৫ একর সমতল প্রথম শ্রেনীর জমি প্রদান করেন। নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার, নাইক্ষ্যংছড়ি মহিউসসুন্নাহ মাদরাসাসহ অনেক স্থাপনার কারণে আমার পিতা হাজি ছালেহ আহমদকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য তৎকালীন ভারতীয় যুদ্ধ অঞ্চলের প্রধান, সেনাবাহিনীর চৌকষ কর্মকর্তা মেজর চরম সিংহ কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত। আমার মা আয়েশা খাতুন নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
আমার জেঠা (পিতার বড় ভাই) মরহুম আলহাজ্ব মকবুল আহমদ ১৯৫৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী-দোছড়ি, দোছড়ির চেয়ারম্যান ছিলেন। চাচা মরহুম হাফেজ আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, দীর্ঘদিন এ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য তৎকালীন ভারতীয় যুদ্ধ আঞ্চলের প্রধান, সেনাবাহিনীর চৌকষ কর্মকর্তা মেজর চরম সিংহ কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত।
চাচাদের মধ্যে মরহুম মসিহ উদ দৌল্লাহ দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উইনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আরেক চাচা মরহুম আবদুর রহিম ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
ফুফাতো ভাই আবুল হোসেন প্রায় ২৫ বছর ধরে দোছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি মারা যান।
আমার ভগ্নিপতি মোঃ ইকবাল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী। বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, নাইক্ষ্যংছড়ি এমএ কালাম ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
পারিবারিকভাবেই আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও চেতনার সাথে আমাদের পুরো বংশই ওতপ্রোতভাবেই জড়িত। পাহাড়ী অঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চর্চা ও প্রতিষ্ঠায় আমার পিতা থেকে শুরু করে সকলেই কমবেশি অবদান আছে।