চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে নানা কৌশলে হোস্টেলের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত

প্রকাশ: ২০১৯-১০-২২ ০০:৩৯:৩৭ || আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ০০:৪৩:৫৮

নিউজ ডেস্ক :
কক্সবাজার জেলার সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের আবাসিক ছাত্রদের খাবারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয় নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। কোরক বিদ্যাপীঠের হোস্টেল সুপার ও ধর্মীয় শিক্ষক নেছারুল হক এবং হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলাম মিলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লুটে নিয়েছে। এঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ৫সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কোরক বিদ্যাপীঠে ৩-৪’শ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হোস্টেলেই খাবার খেয়ে থাকেন। তাদের খাবার বাবদ জনপ্রতি তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

একাধিক নানা সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের হোস্টেল সুপার ধর্মীয় শিক্ষক মৌলভী নেছারুল হক ও হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলাম মিলে হিসেবের গরমিল দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অভিভাবক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে। তবে এ টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে ঘটনার সাথে জড়িত একেঅপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও তুলছেন। হোস্টেল সুপার মৌলভী নেছারুল হকের দাবী বিদ্যালয়ের হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলাম নিজেই এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাই নিজের অপকর্ম ঢাকাতে তাকে জড়ানোর কথা জানান তিনি।

হোস্টেল সুপার মৌলভী নেছারুল হক আরও বলেন, হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষর জাল করে আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের কাল্পনিক অভিযোগ তুলছেন। যার আদৌ কোনো সত্যতা নেই। অপরদিকে হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলামের দাবী, হোস্টেলের আত্মসাতকৃত সমুদয় টাকাই হোস্টেল সুপার নেছারুল হক ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই।

এদিকে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মকছুদুল হক ছট্টোকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরমধ্যে ওই কমিটির সদস্যরা তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠার পর থেকে তিনি স্কুল থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হোস্টেলের ২২ লাখ টাকা লুটে নেয়ার অভিযোগ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হোস্টেলের টাকা আত্মসাত করে পৌরএলাকায় অনেক জায়গা জমির মালিকও হয়েছেন।

স্থানীয় ও অভিভাবক সুত্র জানা গেছে, শিক্ষক মৌলভী নেছারুল হক প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় শিক্ষকের পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে হোস্টেল সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে এ পদটি ভাগিয়ে নিয়েছেন। এরপর থেকে শুরু হয় হোস্টেলের টাকা হরিলুটের মহৌৎসব। ঘুষের টাকা পুষিয়ে নেয়ার পাশাপাশি নিজের আখের গোছাতে হোস্টেলের ছাত্রদের নিম্মমানের খাবার সংগ্রহ ও ভূয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নেছারুল হক হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতিমাসে ১-৫ তারিখের মধ্যে ৫০হাজার টাকা করে নিতেন। প্রতিদিনের বিল ভাউচারের হিসাব না দেখে মাসে একবার হিসাব দেখার অজুহাত তুলে তিনি এ টাকা হাতিয়ে নেন।

এভাবে গত ১৬ মাসে হোস্টেল সুপার হিসাব রক্ষকের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

হোস্টেল সুপার নেছারুল হক জানান, এরইমধ্যে হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলাম মৌখিকভাবে প্রধান শিক্ষকের কাছে ২২ লাখ টাকা লুটে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। প্রধান শিক্ষকের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দেন বলে জানান তিনি। এব্যাপারে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক নুরুল আখের বলেন, হোস্টেলের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমুদয় টাকার হিসেব গুছিয়ে নিয়ে খুব শীঘ্রই তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রতিবেদস জমা দেবেনে। ওই প্রতিবেদনে কেহ টাকা আত্মসাতের টাকা প্রমাণ পেলে তাদের কাছ থেকে ওই টাকা আদায়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *