চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

অজান্তে কেটে গেল খাগড়াছড়ি হানাদার মুক্ত দিবস

প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৫ ২০:০৬:১০ || আপডেট: ২০১৯-১২-১৫ ২০:০৬:২২

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি :
১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় পার্বত্য জনপদ খাগড়াছড়ি। প্রতিবছর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাধীনতা স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগের সহযোগীতায় মুক্তিযোদ্ধারা উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করলেও এ বছর নীরবে কেটে গেছে দিবসটি।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন এবং জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানরা। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার রিজাউল করিম ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবছর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় দিবসটি পালন করতে দেখা গেলেও এ বছর এক প্রকার নিস্তব্ধতায় কেটেছে দিনটি। মুক্তিযোদ্ধারা ঘরোয়া পরিবেশে দিবসটি পালন করলেও নতুন প্রজন্মের কাছে হয়তো অজান্তে থেকে গেছে দিবসটির তাৎপর্য।

এ বিষয়ে জানতে খাগড়াছড়ি জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও আওয়ামীলীগ নেতা রইছ উদ্দিনের মুঠোফোনে কল করা হলে ক্ষোভের সাথে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের যতটুকু সামর্থ্য ছিল তা দিয়ে দিবস পালন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামীলীগ অন্যান্য বছরের মত আমাদের সাথে দিবসটি পালন করলে জমকালো হতো। এ বছর কি কারণে তারা দিবসটি পালন করেনি সেটি আমার জানা নেই।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, খাগড়াছড়ি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করা হয়। তবে, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের হানাদার মুক্ত দিবসের আলোচনা সভার কোন তথ্য কিংবা ছবি গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়নি। খাগড়াছড়ি মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলার দীঘিনালা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজনে আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা থেমে থেমে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেয়। ৪টি প্লাটুনে ভাগ হয়ে একে একে পার্বত্য এলাকা দখল করে নেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাছবান কুকিছড়া এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীকে হাটিয়ে ১৫ ডিসেম্বরের এই দিনে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা খাগড়াছড়ি শহরে স্বাধীন বাংলার বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। বিজয় দিবসের ঠিক আগের দিন খাগড়াছড়ি শত্রুমুক্ত হয়। ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় এসডিও বাংলোর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী। এসময় গ্রুপ কমান্ডার অশোক চৌধুরী বাবুল, মংসাথোয়াই চৌধুরী, জুলু মারমাসহ অনেকেই সঙ্গে ছিলেন।

১৯৭১ সালের এর আগে ২৭ এপ্রিল মহালছড়িতে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। পরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করায় এলাকার চিত্তরঞ্জন চাকমাসহ চার পাহাড়িকে হত্যা করে পাকবাহিনী। সারাদেশের মানুষের মতো খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।

মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনের মায়া ত্যাগ করে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ১৯৭১ সালের আজকের দিনে চেঙ্গীনদী বিধৌত এই খাগড়াছড়ি জেলাকে শত্রুমুক্ত করে ছিল মুক্তিযোদ্ধের বীর সেনারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *