প্রদীপ শীল
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৫ ২০:২১:৫৪ || আপডেট: ২০১৯-১২-১৫ ২০:২২:০৩
প্রদীপ শীল, রাউজানঃ
আদালতের নির্দেশে ১১ মাসের এক শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গহিরা ইউনিয়ন থেকে শিশুটি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা শিশুটিকে ১৪দিন পর ১৫ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশুটির মাকে কোলে তুলে দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
জানা যায়, গত দুই বছর আগে রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা এলাকার আব্দুল মালেকের নতুন বাড়ির সুলতান আহমেদের ছেলে সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ৮ লাখ টাকা কাবিননামা মূলে বিয়ে হয় হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের মো. ইউনুসের মেয়ে রিমা আকতারের।
পুলিশ জানিয়েছেন ঐসময় বিয়েতে বরযাত্রী খাওয়াতে না পারায় বিয়ের ৬ মাসের মাথায় স্বামীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক কামিন নামার রদবদল ঘটে। নতুন করে কামিন নামা করার জন্য শ্বশুর পক্ষকে চাপ দিতে থাকে। অবশেষ ‘মোহরে ফাতেমী’ এর মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা কাবিন নামা করা হয়।
এরপর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে রিমা আকতারকে নির্যাতন করে আসছিল তার স্বামী। ১১ মাস পূর্বে তাদের সংসারে জন্ম হয় শিশু হুমায়রা জান্নাত। তারপরও নির্যাতন থেমে থাকেনি রিনার উপর। একপর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয় মোহরে ফাতেমী’র ধার্য্য কাবিনমূলে।
গত ১ ডিসেম্বর রোববার স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কথিত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। স্বামী রেখে দেয় ১১ মাসের দুধের মিশু হুমায়রা জান্নাতকে। রিমা বৈঠকে শিশুকে পাওয়ার জন্য সবার হাত-পা ধরলেও সন্তানকে দেয়া হয়নি। শিশুটি মা রিমা ফিরে পেতে ৪ ডিসেম্বর আদালতে একটি অভিযোগ দেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে শিশুটি উদ্ধার করতে রাউজান থানাকে নিদের্শ দেয়।
এর প্রেক্ষিতে রাউজান থানা পুলিশ গত শনিবার রাতে শিশুটি উদ্ধার করে থানায় এনে মায়ের কোলে তোলে দেন। ১৪ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেন কন্যা শিশুকে। বাদী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট অসীম কর্মকার জানান, শিশুটি উদ্ধারের পর আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ আদালত মায়ের কোলে শিশুটিকে স্থায়ী ভাবে তুলে দেয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গহিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বাঁশি বলেন, তিনবার সময় দিয়েছিলাম, এরপরও মেয়ে সংসার করার পক্ষে ছিল না। পরে আমরা বিবাহ বিচ্ছেদ করেছি নিয়ম অনুসারে। কোন কাবিন মূলে বিচ্ছেদ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরযাত্রী খাওয়াতে না পারায় প্রথম কাবিননামা বাতিল করে দিয়ে দ্বিতীয় কাবিন নামা করেছিল বলে জেনেছি।
তাই পরবর্তী কাবিন মূলে (মোহরে ফাতেমী’) বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। মা সন্তানকে নিতে না চাওয়ায় আমরা বাবার কাছে দিয়ে দিই। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, বিয়ের সময় আসবাবপত্র নেয়ার পরও বরযাত্রী খাওয়াতে না পারায় ৮ লাখ টাকার কাবিন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে। পরে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দেয়।
শিশুটিকে বাবা রেখে দেয়ার পর আমরা আদালত থেকে একটা বাচ্চা উদ্ধারের আবেদন পায়। এরপর আমরা শিশুটি উদ্ধার করেছি। রোববার আদালতের প্রেরণ করেছি। তিনি বলেন কাবিন বাতিল করে ২য় বার কাবিন নামা করার কোন আইনগত বৈধ্যতা নেই। এসব কাজি ব্যাপারে মানুষকে সচেতন হওয়া দরকার।