admin
প্রকাশ: ২০২০-০১-৩০ ২৩:৪৩:০৯ || আপডেট: ২০২০-০১-৩০ ২৩:৪৩:১৭
চকরিয়া প্রতিনিধি :
চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে তিব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে সভাপতি করায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এতে ক্ষোভ বাড়ছে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঘোষিত পকেট কমিটি বাতিল করে পূর্বের কমিটি বহালের দাবী জানান নেতাকর্মীরা। কমিটি ঘোষণা নিয়ে যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে সচেতনমহল।
নেতাকর্মীরা জানান, চকরিয়া পৌরশহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কমিটি। যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ভাঙচুর ও অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনেও অবদান রয়েছে।
কিন্তু বুধবার গভীর রাতে পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। এমনকী দলের গঠনতন্ত্রও মানা হয়নি। একেবারে অন্যায় ভাবে পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তবে এমন পরিবর্তন হবে, সেটা কেউ বুঝতে পারেননি।
কমিটি ঘোষণার পর নেতাকর্মীরা হতবাক হয়ে যান। এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে। কমিটি ঘোষণা নিয়ে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে নেতাকর্মীরা।
চকরিয়া পৌসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র না মেনে আমাদের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পকেট কমিটি দিয়েছে। যাকে সভাপতি করা হয়েছে, তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার পরিবারের সবাই বিএনপির সক্রিয় রাজনীতি করে। কীভাবে তাকে সভাপতি করা হলো আমাদের বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আমি তিলে তিলে চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কমিটি ক্ষয়ে যাওয়া সংগঠন খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে দাঁড় করিয়েছি। আগামী দিনেও সংগঠনের ত্যাগী, বঞ্চিত নেতাকর্মীদের পাশেই থাকব। নতুন কমিটি বাতিল করে পূর্বের কমিটি বহাল রাখার দাবী জানাচ্ছি।
একইভাবে ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হুমায়ন আহমদ বলেন, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে। তাকে কমিটিতে সম্পাদক দেওয়ার কথা বলে তারা লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু বলেন, আমাদেরকে না জানিয়ে পকেট ঘোষণা করায় ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছেন নেতাকর্মীরা। গণতন্ত্রের বিরোধী কর্মকান্ড করেছে পৌর আওয়াীলীগের সভাপতি/সম্পাধারণ সম্পাদক। তারা কোনো নিয়মনীতি মেনে নতুন কমিটি ঘোষণা করেনি।
তিনি আরও বলেন, চকরিয়া পৌরসভার সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী গত ১৭-১২-২০১৯ সালে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলন করার তারিখ ঘোষণা করেন। সেই হিসেবে আমরা সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ করে সম্মেলন স্থগিত করেন পৌর আওয়ামীলীগ।
তারা ২৯ জানুয়ারী গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আরেক কমিটি ঘোষণা করেন। এধরণের নিয়মবর্হিভূত নতুন কমিটি নেতাকর্মীর মেনে নেবে না। এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিগত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পৌর আওয়ামীলীগ টাকা নিয়ে কোনো কমিটি দেওয়া হয়নি। যোগ্য নেতাদের নতুন কমিটির দায়িত্ব হয়েছে। সম্মেলন ছাড়াও কমিটি দেওয়া যায় বলে তিনি জানান।
এদিকে চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু জানান, পূর্বের কমিটি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। দলের যোগ্য ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে আমরা দলের দায়িত্ব দেইনি এবং টাকা নেওয়া হয়নি।