জাহেদুল হক
আনোয়ারা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০২০-০২-০৪ ২০:৪৭:৪৯ || আপডেট: ২০২০-০২-০৪ ২০:৪৭:৫৮
জাহেদুল হক, আনোয়ারা :
আনোয়ারায় রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে একদিকে যেমন উর্বরাশক্তি হারাচ্ছে কৃষিজমি অন্যদিকে মাটিবাহী ট্রাকের বেপরোয়া যাতায়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট,কালভার্ট ও পরিবেশ। মাটি ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে সহিংসতা,বিঘিœত হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
ইটভাটার মালিকরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অর্থের জোগান দিয়ে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জমির মালিকদের প্রলুদ্ধ করে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ভূমি আইন অমান্য করে বেপরোয়াভাবে মাটি কাটায় প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে,উপজেলার বটতলী পূবের বিল,দক্ষিণ বারশতের বিল ও জুঁইদন্ডী মাঝেরঘাট এলাকা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বটতলী পরীর বিলের দুই ইটভাটায়। আর সিইউএফএল সারকারখানার দক্ষিণে সরকারি খাস জমি থেকে মাটি বিক্রি হচ্ছে কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কে।
এছাড়া বরুমচড়া,বারশত,রায়পুর,হাইলধর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে কৃষিজমি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাঘাট। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান,দিনের আলো নিভে গেলেই রাস্তায় মাটির ট্রাকের সারি। অন্তত ২০-৩০টি ট্রাক একের পর এক আসা-যাওয়া করে। দূর থেকে মনে হবে রাস্তায় যেন কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে। এগিয়ে গেলেই ধারণা পাল্টে যাবে। এভাবে প্রতিরাত ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর মাটি।
কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান,‘উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করা হয়েছে। পুলিশও টাকা নেয়।’ বটতলী গ্রামের কবির আহমদ জানান,মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা যায় না। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসন নামমাত্র অভিযান চালায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন,এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে। তা ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত আছে এবং থাকবে।