চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

বদরখালী সমিতির জমি মৌজার মূল্যের নির্ধারণ করার দাবী

প্রকাশ: ২০২০-০২-১০ ১১:১২:১২ || আপডেট: ২০২০-০২-১০ ১১:১২:১৯

চকরিয়া অফিস:
দেশের বৃহত্তম সমবায় প্রতিষ্ঠান ‘বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি’র মালিকানাধীন জমির মৌজা দর সমিতির অভ্যন্তরে প্রচলিত দরের ভিত্তিতে নির্ধারণ করার দাবী জানিয়েছে সমিতির সদস্য-পোষ্যরা।

সমিতির সদস্যরা জানান, সাংবিধানিক আইনের ধারাবাহিকতায় সমবায় আইনের বাধ্যবাদকতা হেতু সমিতিভুক্ত জমি সমিতি বহির্ভুত কোন ব্যক্তির অনুকূলে সরাসরি হস্তান্তর/বিক্রয় করা যায় না। কিন্তু সমিতির সদস্য পোষ্যরা সমিতির মালিকানা অক্ষুন্ন রেখে পরস্পরের মধ্যে ভোগ দখল হস্তান্তর করে থাকে মাত্র।

ফলে সরকারী সাব-রেজি: অফিসে ইহার ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকার কথা নয়। অথচ সাব-রেজিঃ অফিস চকরিয়া বদরখালী ঘোনা মৌজার একটা মনগড়া মূল্য মৌজা-দর সংক্রান্তে তৈরী তালিকা লিপিবদ্ধ করেছে যা সমিতির অভ্যন্তরে পরস্পরের মধ্যে ভোগ-দখল হস্তান্তর মূল্যের ছেয়ে ১৬/১৭ গুণের কম। মৌজা দরের এ অসঙ্গতি সমিতির ৫০ হাজার সদস্য পোষ্যকে ক্রমে বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছে।

অথচ বিগত ২০১৬-২০১৭ সালে সদস্য-পোষ্যদের মধ্যে হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায় প্রতি ৪০ শতক জমির মূল্য সর্বনি¤œ ১ কোটি ২০ লক্ষ ও সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে।

পরবর্তি ২০১৮ ও ১৯ সালে আরও বেশী।
সমিতি বহির্ভুত ব্যক্তির অনুকূলে এ জমি হস্তান্তর/বিক্রয় করার সুযোগ থাকলে প্রতি ৪০ শতক ২ কোটি টাকার উপর হতো বলে মন্তব্য সমিতির একাধিক সদস্যের।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর মোহাম্মদ শিবলী নোমান জেলার সিনিয়র এক সাংবাদিকের সাথে এ প্রসঙ্গে আলোচনায় বলেছেন “বদরখালীর জমির মূল্যতো ঢাকার গুলশান-বনানীর সমমানের” এতদ্বসত্তেও সাব রেজিঃ অফিস চকরিয়া বদরখালী মৌজার জমির হস্তান্তর সংক্রান্ত কোন প্রকার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ না করেই প্রতিশতকের মূল্য নির্ধারণ করেছেন মাত্র ৮ লক্ষ টাকারও কম’ সদস্য ও পোষ্যদের বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছে।

সমিতির সদস্য ও পোষ্যরা বিগত ২ বছর ধরে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মৌজা দর সমিতির অভ্যন্তরে প্রচলিত দরের ভিত্তিতে নির্ধারন করার আবেদন করে আসছে। সর্বশেষ সমিতির সম্পাদক এর দায়েরী মহামান্য হাইকোর্টের ৭২৫৪/২০১৯ নং রীট পিটিশনের শুনানীর পর ৮ জুলাই আদেশ প্রাপ্তির ১ মাসের মধ্যে সমিতির আবেদন নিস্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১২ডিসেম্বের জেলা প্রশাসক কক্সবাজার হাইকোর্টের উক্ত আদেশ পেলেও ২ মাসেও জেলা প্রশাসক কক্সবাজার আইনগত জটিলতার অজুহাতে বিষয়টির নিস্পত্তি করেননি বলে জানান সমিতির সদস্যরা। ১৯৯১ সালে ততকালীন বিরোধীদলী নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ সমিতির মাঠে ঐতিহাসিক কৃষক সমাবেশ করেছিলেন।

সমিতির কার্যক্রমে তিনি অভিভুত হয়ে পরিদর্শন খাতায় নিজের অনুভুতি লিখে গিয়েছিলেন। সমিতি কর্তৃপক্ষ জননেত্রীর উক্ত বাণী স্ব যত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছে আজো। শেখ হাসিনার গত ২ মেয়াদে এই সমিতি ২ বার জাতীয় সমবায় পুরুস্কার পেয়েছে।

এহেন একটা সমিতি মৌজা দরের গ্যাঁড়াকলে আজ হুমকির মুখে। সমবায় অঙ্গণের জীবন্ত মহিরুহ খ্যাত বদরখালী সমবায় সমিতির সদস্য পোষ্যরা বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন জমির মৌজা-দর সমিতির অভ্যন্তরে প্রচলিত দরের ভিত্তিতে নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা কথায় কথায় সমবায় ব্যবস্থাকে সমাজ উন্নয়নের মডেল হিসাবে নেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন কিন্তু সমবায় মালিকানার সম্পদ এর যথাযত মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কার্যকর কোন উদ্যোগ না নেওয়া সমিতিকে ধ্বংসএর মুখে ফেলে দেওয়ার নামান্তর বলে মন্তব্য অনেক সদস্য ও পোষ্যের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *