চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই প্রতিনিধি

কর্মহীন পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিলো মিরসরাইয়ের এক ঝাঁক তরুন

প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩০ ২২:৩৭:০৪ || আপডেট: ২০২০-০৩-৩০ ২২:৩৭:০৯

মিরসরাই প্রতিনিধি
করোনা সংকটে সরকারি নির্দেশনা মেনে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে এক ঝাঁক নিবেদিত প্রাণ তরুন। অভাবী মানুষগুলো যেন খাবারের অভাবে কষ্টে না ভোগে সে লক্ষ্যে বন্ধু বান্ধব ও সমাজের সচ্ছল মানুষদের আর্থিক সহায়তায় উপজেলার ১৪০ পরিবারে বিতরন করা হয়েছে খাদ্য সহায়তা। আরো প্রায় ১২০টি পরিবারে খাদ্য সহায়তার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে তারা।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক সংগঠন দীপ জ্বেলে যাই এর সাধারণ সম্পাদক, সংগীত শিল্পী মহিবুল আরিফ লকডাউন শুরু পর দরিদ্র ও অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্যের কথা ভেবে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেয়। সেই পোষ্টে সামর্থবান ও মানবিক মানুষগুলোকে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ানোর আবেদন জানায় আরিফ। পরে তার সাথে যোগ হয় এলাকার আরো বেশ কিছু উদ্যমী তরুন সমাজকর্মি ।
তাদের উপর বিশ্বাস রেখে মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ পাঠিয়েছেন অনেক মানবিক মানুষ। সেই টাকায় কেনা হয় চাল, ডাল, তেল, পেয়াজ সহ প্রয়োজনীয় খাবার। এরপর নিজেরা প্যাকেট করে পৌছে দিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মহীন ও অভাবী মানুষের ঘরে। প্রতিটি কাজে নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে গেছে এসময় তাদের সাথে যুক্ত হন আব্দুল মতিন। মানবিক গুণ সম্পন্ন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী ব্যক্তিগত সাধ্য অনুযায়ী এর আগেও মানুষের বিপদ আপদে সহায়তায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
উদ্যেক্তাদের অন্যতম মহিবুল আরিফ জানায়, সংকটে শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে যারা অর্থ সহায়তা দিয়েছেন তাদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা। আমরা সাধ্য মতো ঘরে ঘরে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। চেষ্টা করছি সচেতনতা বৃদ্ধির। কর্মহীন মানুষগুলো যেন খাবারের অভাবে কষ্টে না ভোগে, এজন্যে সকলের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে আশপাশের কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
আরিফ আরো জানায়, গত তিন দিনে ১৪০ পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরো ১২০পরিবারের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতি পরিবারকে ৫ কেজি চাউল, ২ কেজি আলু, আধা লিটার তৈল, ৭৫০ গ্রাম ডাল, আধা কেজি পেঁয়াজ, ১টি সাবান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাস্ক দেয়া হয়েছে।
লকডাউনের কারনে আয় রোজগার নেই, এই সময়ে সাহায্য পেয়ে খুশি হয়েছেন কর্মহীন ও ‍দুস্থ মানুষগুলো।
খাবার সরবরাহ করা হয়েছে চরশরৎ এতিমখানা, ওয়াহেদপুর, ডোমখালী, গজারিয়া, পাত্তারপুকুর, সুফিয়া রোড, মধ্যম তালবাড়িয়া, মান্দারবাড়িয়া, গড়িয়াইশ পূর্ব বাড়িয়াখালি, পশ্চিম এবং মধ্যম বাড়িয়াখালি, রায়পুর (চলমান ফিলিং স্টেশন), মধ্যম সোনা পাহাড় (জোরারগঞ্জ) সহ কয়েকটি এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *