চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই প্রতিনিধি

করোনার প্রভাব : কষ্টে দিন কাটছে পরিবহন শ্রমিকদের

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৭ ২১:১১:৪৬ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৭ ২১:১১:৫০


এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কষ্টে আছেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিকের পরিবারে অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটছে। করোনায় যেসব সেক্টরে বড় ধরনের আঘাত এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলোÑ পরিবহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সব গণ পরিবহন এখন বন্ধ রয়েছে। আপাতত কোনো কাজ নেই তাদের। আরো কতদিন পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ থাকতে পারে তার নিশ্চয়তা নেই। ফলে পরিবহন শ্রমিকরা এখন দিশেহারা। প্রাইভেট কিছু পরিবহনের শ্রমিক মাসিক বেতনে কাজ করলেও অধিকাংশ শ্রমিক দিন মজুরের মতো কাজ করেন। কাজ করলে টাকা, আর কাজ না থাকলে টাকা নেই। ফলে কাজ না থাকলে ওই শ্রমিক ও তাদের পরিবারের না খেয়েই দিন কাটে।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন রুটে, বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, হাইচ, মাইক্রো, সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করতো। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অঘোষিত লকডাউনের কারণে গত দেড়মাস ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার পরিবহন শ্রমিক রয়েছে।

পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারইয়ারহাট-চট্টগ্রাম রুটে চয়েস ও উত্তরা বাসে ৪৪০ জন শ্রমিক রয়েছেন। দারোগাহাট-বারইয়ারহাট-ফেনী রুটে চলাচল করা আনন্দ পরিবহনে ১৩০ জন, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রো, হাইচে রয়েছে ৫শ জন, বারইয়ারহাট-সীতাকুন্ড রুটে চলাচল করা হিউম্যান হলারে রয়েছে ২শ ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা চালক রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩শ অটোরিক্সা চলাচল করছে। বাকি চালকদের বেকার জীবন কাটছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দফায় দফায় বাড়ানো হয় সরকারি এ সাধারণ ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এ ছুটি। ফলে একপ্রকার ঘরবন্দি হয়ে আছেন দেশের মানুষ। এতে সকল পর্যায়ের কর্মহীন মানুষগুলোর দুর্ভোগও বাড়ছে। সরকার নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের খাদ্য সংকট নিরসনে শুরু থেকেই ত্রাণ কর্মসূচি চালু করলেও চাহিদার অনুপাতে ছিল অপ্রতুল। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ, প্রশাসন ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে পরিবহন শ্রমিকরা কোন ত্রাণ পাচ্ছেন না।
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার মামুন নামে এক পরিবহন শ্রমিক সীতাকুন্ড-বারইয়ারহাট রুটে হিউম্যান হলার চালান। তিনি বলেন, গত দেড়মাস ধরে বেকার বসে আছি। সামান্য সহযোগীতা পেয়েছি, তা দিয়ে বড়জোর একসপ্তাহ গেছে। আরো কতদিন বেকার থাকতে হয় বুঝতেছিনা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মরার উপক্রম হয়েছে।

একাধিক পরিবহন শ্রমিক বলেন, অধিকাংশ শ্রমিকরা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তাদের কোনো পুঁজি নেই। দিনে যা আয় করেন দিনেই তা শেষ হয়ে যায়। পরদিন খেতে হলে তাদের কাজে যেতে হয়।

উপজেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইউসুফ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করতো। গত দেড়মাস ধরে করোনাভাইরাসের কারণে ২ থেকে ৩শ সিএনজি ছাড়া বাকি সব সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য সহযোগীতা সিএনজি চালকরা পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস হিউম্যান হলার শ্রমিক ইউনিয়ন বারইয়ারহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন মাসুক জানান,অনেক কষ্টে দিন কাটছে পরিবহন শ্রমিকদের।
উপজেলা প্রশাসন থেকে ২শ শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে। জোরারগঞ্জ থানা থেকে ৫০জন শ্রমিককে চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমার পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগীতা করেছি। শ্রমিকদের সহযোগীতার জন্য চট্টগ্রাম শ্রম অধিদপ্তরে আবেদন করেছি।

বারইয়ারহাট-মাদারবাড়ি রুটে চলাচল করা উত্তরা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল কামাল মিটু বলেন, লকডাউনে শুধু শ্রমিকরা নয়, বাস মালিকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমার ব্যক্তি পক্ষ থেকে প্রায় ৩শ পরিবহন শ্রমিককে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬০০ পরিবহন শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছি। তার মধ্যে বাস-ট্রাক হিউম্যান হলারের শ্রমিক ৫৫০ জন ও সিএনজি অটোরিক্সা চালক ৫০জনকে সহযোগীতা করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *