চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

admin

চট্টগ্রামের ২৪ ইটভাটা উচ্ছেদে বাধা নেই!

প্রকাশ: ২০২১-০৪-০৮ ২১:৫৩:৪০ || আপডেট: ২০২১-০৪-০৮ ২১:৫৩:৫১

কে হামিদ|
চট্টগ্রাম জেলার ২৪টি ইটভাটা উচ্ছেদে সময় দিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের আবেদনের শুনানি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার আদালত এ আদেশ দেয়।
ফলে এই ২৪টি ইটভাটা উচ্ছেদে কোনো বাধা থাকছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এক আইনজীবী।

এসব ইটাভাটা চট্টগ্রাম সদরসহ জেলার সাতকানিয়া, লোহাগড়া, চান্দগাঁও ও চন্দনাইশ উপজেলায় অবস্থিত।

আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ কামরুল হোসেন কিরণ ও মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।

মনজিল মোরশেদ বলেন, “সম্প্রতি চট্টগ্রামের ২৪টি ইটভাটার মালিক হাই কোর্ট ও চেম্বার আদালতের আদেশের তথ্য গোপন করে পুনরায় হাই কোর্টে আটটি রিট মামলা দায়ের করেন। এসব আবেদনে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত চাওয়া হয়।”

“সেসব রিটের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ২২ মার্চ আদেশ দেন। আদেশে   ইটভাটাগুলোকে ৪৫ দিন সময় দিয়ে এর মধ্যে উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়,” বলে জানান এই আইনজীবী।

হাই কোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে গত সপ্তাহে চেম্বার আদালতে আবেদন করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

মনজিল মোরশেদ বলেন, “চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত  করে আমাদের আবেদনটি আগামী ২১ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রেখেছেন। এ আদেশের ফলে ২৪টি ইটভাটা উচ্ছেদে কোনো বাধা থাকছে না।”

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) এক আবেদনে হাই কোর্ট গত ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয়।

একই সঙ্গে এগুলোর মধ্যে কাঠ ও পাহাড়ের মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটার তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাই কোর্টের এ আদেশের পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক একটি কর্মসূচী তৈরি করে ইটভাটা বন্ধে একজন নির্বাহী হাকিম নিয়োগ দেন।

তবে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় নির্বাহী হাকিম এসএম আলমগীর ও জিল্লার রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করে এইচআরপিবি।

পরে সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট ৩১ জানুয়ারি এক আদেশে চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক  ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে এ নির্দেশনা পালন করতে বলে আদালত। 

হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে লোহাগড়ার ১১টি ইটভাটা মালিক আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

ইটভাটাগুলো হলো- শাহ মজিদা ব্রিক, এএইচ ব্রিকস, শাহ জব্বারিয়া ব্রিক ফিল্ড, বার আওলিয়া ব্রিক ফিল্ডস, রুন্তী ব্রিক ম্যানুফাকচারার, আরর ব্রিক ম্যানুফাকচারার, পদ্মা ব্রিকস, মহাজন মসজিদ ব্রিকস, শাহ জব্বারিয়া ব্রিকস, পুটিভিলা মাওলানা ব্রিকস ম্যানুফাকচারার ও খাজা ব্রিকস।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি আগামী ১৬ আগস্ট শুনানির জন্য রেখে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

এ নিয়ে আইনি লড়াই এখানেই থেমে থাকেনি। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ২৪টি ইটভাটার মালিক পুনরায় হাই কোর্টে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত চেয়ে আটটি রিট মামলা দায়ের করেন। তখন হাই কোর্ট ৪৫ দিনের সময় দেয়।

আইনজীবী মনজুর মোরশেদ বলেন, এসব রিটে এ সংক্রান্ত হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের আদেশের তথ্য গোপন করা হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশের পর বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ নতুন আদেশ দেয়।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *